আবার আগুন মধ্যপ্রাচ্যে হুমকিতে শান্তিচুক্তি

সংগৃহীত ছবি
আবার আগুন মধ্যপ্রাচ্যে। গোলাবারুদের ফুলকিতে পুড়ছে মরুর উত্তপ্ত হাওয়া। কামান-বারুদের গর্জনে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল বহুল অপেক্ষার শান্তি। হুমকিতে পড়ল ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফার চুক্তিতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি। সব সমঝোতা, টেবিল বৈঠক আর আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ছারখার করে আবার শুরু হলো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। শান্তির সাদা পতাকা ফেলে ফের সেই আগ্রাসী লড়াই। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রণহুংকারে জেগে উঠল সাম্রাজ্যখেকো মার্কিন রণদানব। রণঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেল স্বস্তির হাওয়া। হরমুজ থেকে পারস্য উপসাগর— সবখানেই যুদ্ধের দামামা। মার্কিন মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরায়েলের চুক্তিতে (শুক্রবার) উত্তাল হয়ে ফুঁসে উঠেছে হিজবুল্লাহ। রয়টার্স, আলজাজিরা, সিএনএন।
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইরানের চার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা বিমান হামলার জবাবে বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে তেহরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই উত্তেজনার জন্য ‘চুক্তি ভঙ্গকারী মার্কিন প্রশাসনকে’ দায়ী করেছে। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে অননুমোদিত রুট ব্যবহার করার অজুহাত দেখিয়ে ইরানের উপকূলে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের দাবি, নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনে চলায় ওই বাণিজ্যিক জাহাজটির ওপর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী এই মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তারা দেয়নি। ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘যদি এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক ও কঠোর হবে।’ এই বিবৃতির কয়েক ঘণ্টা যেতেই শনিবার হরমুজের আরেক জাহাজে হামলা চালায় আইআরজিসি।
বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার জের ধরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘বোকামির মতো লঙ্ঘনের’ অভিযোগ আনার পর এই হামলা চালানো হলো। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত শুক্রবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুদ কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্টেশনগুলোয় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলাকে বৃহস্পতিবার একটি মালবাহী জাহাজে চালানো ড্রোন হামলার ‘উপযুক্ত ও শক্তিশালী জবাব’ বলে অভিহিত করেছে সেন্টকম। ওই ড্রোন হামলার কারণে ওই অঞ্চলে আটকেপড়া হাজার হাজার আন্তর্জাতিক নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার একটি পূর্বপরিকল্পিত অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয় জাতিসংঘ।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানি বাহিনীর এই অযাচিত আগ্রাসন স্পষ্টতই দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। এ ছাড়া ইরানের এই বিপজ্জনক আচরণ নৌ-চলাচলের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে, বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ দিয়ে সাধারণ বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল।
ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা বাহরাইনের: বাহরাইন দাবি করেছে, শনিবার ভোরে তাদের ভূখণ্ডে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
দেশটির অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে সই হওয়া চুক্তির পর প্রথমবারের মতো এ হামলার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে তেহরান। বিবৃতিতে বলা হয়, ভোরে ইরানের একাধিক ড্রোন বাহরাইনের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যা দেশটির সার্বভৌমত্বের ‘চরম লঙ্ঘন’।




