ইসরায়েলি আদালতে গাজামুখী ফ্লোটিলার দুই কর্মী

সংগৃহীত ছবি
ফিলিস্তিনের গাজাবাসীর জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নৌবহরে ৩০ এপ্রিল আবারও অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ভূমধ্যসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে আটক করা হয় জাহাজগুলোকে। সঙ্গে কর্মীদেরও আটক করা হয়। দুই বিদেশি কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রবিবার হাজির করা হয়েছে একটি ইসরায়েলি আদালতে।
৫০টিরও বেশি নৌযান নিয়ে গঠিত এই ফ্লোটিলা ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ ভেঙে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে।
ইসরায়েল জানায়, তারা প্রায় ১৭৫ জন কর্মীকে সরিয়ে নেয়—যাদের মধ্যে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরায়েলে নেওয়া হয়।
রবিবার আশকেলনের একটি আদালতে হাজির হন স্পেনের নাগরিক সাইফ আবু কেসেক এবং ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলা।
অধিকার সংগঠন আদালাহর আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি সমন্বয়ক মিরিয়াম আজিম এএফপিকে বলেছেন, ‘তাদের আটকাদেশ চার দিন বাড়ানোর আবেদন করেছে রাষ্ট্র।’
শনিবার আদালাহ জানায়, আশকেলনের শিকমা কারাগারে আটক দুই কর্মীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তাদের আইনজীবীরা।
আভিলা আইনজীবীদের বলেছেন, নৌযানগুলো জব্দ করার সময় ‘চরম নির্যাতনের’ শিকার হতে হয়েছে তাকে। তিনি জানান, তাকে ‘মুখ নিচের দিকে করে মেঝেতে টেনে নেওয়া হয় এবং এতটাই মারধর করা হয় যে দুবার অজ্ঞান হয়ে যান তিনি।’
আদালাহর উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ইসরায়েলে আনার পর থেকে তাকে ‘নির্জন অবস্থায় এবং চোখ বেঁধে রাখা হয়েছে’ বলেও জানান তিনি।
আবু কেশেককেও ‘হাত বেঁধে ও চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল ... এবং আটক হওয়ার মুহূর্ত থেকে ইসরায়েলে পৌঁছানো পর্যন্ত তাকে মুখ নিচের দিকে করে মেঝেতে শুয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়,’ সংগঠনটির ভাষ্য।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই দুই কর্মী এমন একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, যা মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞার আওতায়।
পপুলার কনফারেন্স ফর প্যালেস্টিনিয়ানস অ্যাব্রড (পিসিপিএ) নামে ওই সংগঠনকে ওয়াশিংটন অভিযুক্ত করেছে যে ‘গোপনে’ ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের পক্ষে কাজ করে তারা।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আবু কেশেক পিসিপিএর একজন শীর্ষ সদস্য এবং আভিলাও ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ও ‘অবৈধ কর্মকাণ্ডে সন্দেহভাজন’।
আভিলার আটককে নিন্দা জানিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে স্পেন।
ফ্লোটিলার আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি অভিযানটি গাজা থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সংঘটিত হয়েছে এবং তাদের সরঞ্জাম ভেঙে ফেলা হয়েছে, ফলে তারা ‘সমুদ্রে পরিকল্পিত মৃত্যুফাঁদে’ পড়েছে।
এএফপির এক সাংবাদিক জানান, শুক্রবার গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে নেমেছেন আটক হওয়া কয়েক ডজন কর্মী।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রথম ভূমধ্যসাগরীয় গাজা যাত্রা ২০২৫ সালের গ্রীষ্ম ও শরতে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে, এরপর অক্টোবরের শুরুতে মিশর ও গাজার উপকূলে নৌযানগুলো আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী।
সেই সময় গ্রেপ্তার করে পরে বহিষ্কার করা হয় সুইডিশ কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ ক্রু সদস্যদের।







