ভূমধ্যসাগরে গাজামুখী সুমুদ ফ্লোটিলায় আবারও ইসরায়েলের বাধা

ফাইল ছবি
ফিলিস্তিনের গাজাবাসীর জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নৌবহরে আবারও অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ভূমধ্যসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে আটক করা হয় জাহাজগুলো।
ফ্লোটিলার আয়োজক ও ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ড্রোন, কমিউনিকেশন জ্যামিং প্রযুক্তি ও সশস্ত্র অভিযানের মাধ্যমে ফ্লোটিলার জাহাজগুলোকে আটকে দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ফ্লোটিলা মিশন জানায়, তাদের জাহাজগুলোর কাছে এসে থামে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর স্পিডবোট। এরপর ইসরায়েলি পরিচয় দিয়ে লেজার ও তাক করে আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র। অংশগ্রহণকারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়, জাহাজের সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসতে।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেআইনিভাবে ঘিরে ফেলা হয়েছে তাদের জাহাজগুলোকে; দেওয়া হয়েছে অপহরণ ও সহিংসতার হুমকি। তাদের ১১টি জাহাজের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যোগাযোগ। ফ্লোটিলা সবার কাছে জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যম দাবি করেছে, আটক করা হয়েছে অন্তত সাতটি জাহাজ।
ইসরায়েল আর্মি রেডিও এক সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, গাজার দিকে যাওয়া সাহায্যবাহী জাহাজগুলো দখলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইসরায়েল। গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে ফ্লোটিলার ৫৮টি জাহাজের মধ্যে সাতটিকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেন, আমাদের এলাকায় পৌঁছানোর আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ফ্লোটিলাটি। উসকানিদাতাদের মোকাবিলা করছে ইসরায়েলি সেনারা।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার মুখপাত্র গুর তসাবার এই অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরস্ত্র বেসামরিক জাহাজে অভিযান চালানো সরাসরি আক্রমণের শামিল। ঘটনাটি ঘটেছে ইসরায়েল থেকে শত শত মাইল দূরে। বন্দুকের মুখে ঘিরে ফেলা হয়েছে জাহাজগুলো।
তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এ ধরনের পদক্ষেপ অবৈধ। এটি সমুদ্রপথে বেআইনি আটক বা অপহরণের সামিল। ‘চারশর বেশি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব দেশের এখনই এগিয়ে আসা উচিত’— উল্লেখ করেন ফ্লোটিলার মুখপাত্র তসাবার।
ফ্লোটিলার একটি জাহাজে থাকা লেখক ও কর্মী তারিক রাউফ জানান, বড় ইসরায়েলি সামরিক জাহাজ থেকে ছোট রাবার বোট (আরআইবি) নামিয়ে ঘিরে ফেলা হয় তাদের জাহাজগুলো। ড্রোন দিয়ে আলো ফেলা এবং অভিযোগ আনা হয় রেডিওতে বার্তা পাঠিয়ে তাদের আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গেরও।
তিনি আরও জানান, কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে অনেক জাহাজের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যোগাযোগ। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিতে গান বাজিয়েও বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে যোগাযোগে, যা এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টির কৌশল।
ইসরায়েলি সামরিক সূত্রগুলো গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, গাজা থেকে অনেক দূরে গিয়ে আকস্মিকভাবে অভিযান চালানোই ছিল এই অপারেশনের লক্ষ্য। গাজা থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল ফ্লোটিলাটি, যা আগের যেকোনো অভিযানের তুলনায় অনেক বেশি দূরত্ব।
গত রবিবার ইতালি থেকে ৫০টির বেশি জাহাজ নিয়ে এই ফ্লোটিলা যাত্রা শুরু করে। যার উদ্দেশ্য ছিল, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। আয়োজকদের দাবি, এটি ছিল এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মানবিক ফ্লোটিলা।
এর আগে গত অক্টোবরে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রায় ৪০টি জাহাজ আটক করে ইসরায়েল, যেখানে গ্রেপ্তার করা হয় ৪৫০-এর বেশি অংশগ্রহণকারীকে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি, সুইডিশ কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসানও।
পরে আটকদের ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের মধ্যে কয়েকজন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। পরবর্তী সময়ে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয় তাদের।
সূত্র: আলজাজিরা



