গাজায় পৌর নির্বাচনে চলছে ভোট, শক্ত অবস্থানে হামাস বিরোধীরা

এক ফিলিস্তিনি নারী বক্সে তার ব্যালট জমা দিচ্ছেন। ছবি :
যুদ্ধবিধস্ত গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে পৌর নির্বাচন আজ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল আগ্রাসন শুরু করার পর এই প্রথম ভোট দিচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা।
রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টা থেকে ভোট নেওয়া শুরু হয়েছে। ৭০ হাজার নিবন্ধিত ভোটার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাবেন।
গাজায় ২০ বছর পর এটিই প্রথম কোনো নির্বাচন। এর আগে, ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনের সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। যেখানে গাজার শাসক দল হামাস নিরঙ্কুশ বিজয় পায়।
দেইর আল-বালাহ গাজার অল্প কয়েকটি শহরের মধ্যে একটি, যেখানে বর্তমানে ইসরায়েলি স্থলবাহিনীর দখল নেই।
উপত্যকার শাসক দল হামাস নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন জানায়নি। যদিও হামাসপন্থি কিছু প্রার্থী নির্বাচন করছেন।
হামাসের প্রধান বিরোধী ও ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ধর্মনিরপেক্ষ ও জাতীয়তাবাদী দল ফাতাহর প্রার্থীদের বেশি দেখা গেছে নির্বাচনে। আছেন বেশ সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীও।
ফাতাহ-সমর্থিত প্রার্থীদের সঙ্গে পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অফ প্যালেস্টাইনের মতো গোষ্ঠীর প্রার্থীদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে।
হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর তিন দফা যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হামলা বন্ধ হয়নি উপত্যকায়। এখনও আছে বোমা আতঙ্ক। তবে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় অন্যরকম আনন্দের অনুভূতি নিয়ে এসেছে ভোট। এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আল-বিরেহ-কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর ৫৫ বছর বয়সী খালিদ ঈদ বলেছেন, প্রতি চার বছর পর পর নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন আসা উচিত।
তার ভাষ্য, প্রতি চার বছর পর পর নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা পরিবর্তন দেখতে চাই। আমরা হয়তো পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারব না, কিন্তু আমরা লোক বদলানোর আশা রাখি... এমন লোক, যারা হয়তো আরও ভালো হবে এবং উন্নয়নে সহায়তা করবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মাহমুদ বাদের বলেছেন, অর্থপূর্ণ পরিবর্তনের আশা কম থাকা সত্ত্বেও আমি ভোট দিয়েছি।
গত তিন বছর ধরে গাজা জুড়ে পৌরসভাগুলো অকার্যকর। সেখানে আছে পানি সংকট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সংকট। গাজাবাসী আশা করছে, নির্বাচনের পর হয়তো পরিবর্তন আসবে।
ইসরায়েলের চলমান গণহত্যায় শেষ দুই বছরে গাজার অন্তত ৭২ হাজার ৫৬৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৮ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। উপত্যকার বেশিরভাগ মানুষ এখনও তাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
সূত্র : আলজাজিরা ও তুর্কি টুডে

