ইরানের নিরাপত্তা পরিষদে বড় রদবদল

মোহসেন রেজায়ি- রয়টার্স
যুদ্ধের পাঁচ মাসে যখন হরমুজ প্রণালির পথ প্রায় বন্ধ, আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে চলছে দেনদরবার, ঠিক তখনই ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনল তেহরান। দেশের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব পদে আনা হয়েছে সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ডস কমান্ডার মোহসেন রেজায়িকে। তার নিয়োগ এমন এক সময়ে হলো, যখন হরমুজ দিয়ে নতুন নৌপথ চালু করা নিয়ে ইরান ও ওমান সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের যোগাযোগবিষয়ক উপপরিচালক রবিবার রাতে এ নিয়োগের ঘোষণা দেন।
রেজায়ি তার পূর্বসূরি মোহাম্মদ বাকার জোলকাদরের তুলনায় বেশি প্রকাশ্য ও সরব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তবে কেন হঠাৎ এই পরিবর্তন, সে বিষয়ে কোনো কারণ জানানো হয়নি। নতুন নিয়োগে ইরানের নীতি বা কৌশলে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তাও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
মাত্র মার্চের শেষেই সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন জোলকাদর। তার আগে এই পদে ছিলেন আলি লারিজানি। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় এক বিমান হামলায় লারিজানি নিহত হওয়ার পর তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নতুন একটি নৌপথ চালুর বিষয়ে ইরান ও ওমান ‘খুব কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে। তবে পাঁচ মাসের যুদ্ধে প্রায় বন্ধ হয়ে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আবার খুলবে কি না, তা আরও কিছু শর্তের ওপর নির্ভর করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও।
এর আগে জোলকাদরও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একাধিক দাবি তুলেছিলেন। এর মধ্যে ছিল ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হুমকি বন্ধ, ইরান এবং লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকে তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ, ইরানের ওপর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।
সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে পরিচালিত হলেও দেশের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে সামরিক, গোয়েন্দা ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধিরাও থাকেন। আর শেষ সিদ্ধান্তের ক্ষমতা থাকে সর্বোচ্চ নেতার হাতেই।
কে এই রেজায়ি?
৭১ বছর বয়সী মোহসেন রেজায়ি ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের কমান্ডার ছিলেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের বড় একটি সময় তিনি এই বাহিনীর নেতৃত্ব দেন।
পরে দুই দশকেরও বেশি সময় ইরানের এক্সপেডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সচিব ছিলেন তিনি। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সরকারের অর্থনৈতিকবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ডক্টরেট করলেও তার কর্মজীবনের বড় অংশ কেটেছে ইরানের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ পদে।
সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনিও রবিবার তাকে নিরাপত্তা পরিষদে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। একই পদে তার সঙ্গে থাকছেন আরেক কট্টরপন্থী নেতা সাঈদ জলিলি। নিয়োগপত্রে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়কার অভিজ্ঞতাসহ রেজায়ির ‘মূল্যবান অভিজ্ঞতার’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
একই আদেশে সাবেক সচিব জোলকাদরকে নিজের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন খামেনি।




