ইরানের ওপরে থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের একটি তেল ও গ্যাস স্থাপনা। ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের জন্য ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। সোমবার থেকে এটি কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।
ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির আওতায় রোববার সুইজারল্যান্ডে উভয় দেশের আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
আলোচনায় থাকা ইরানি প্রতিনিধি দলের সদস্য হোসেইন ঘোরবানজাদেহ আধা-সরকারি তাসনিক নিউজকে বলেছেন, ইরানের তেলের ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সংক্রান্ত একটি নথির খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী (ট্রেজারি সেক্রেটারি) স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন, বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় (ওফ্যাক) ৬০ দিনের জন্য তেহরানের পক্ষে বৈধ একটি ‘জেনারেল লাইসেন্স এক্স’ জারি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, সুইজারল্যান্ডে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির জন্য একটি ভালো ভিত্তি স্থাপন হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে না চলে, তবে তিনি যা করার দরকার তাই করবেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘পারমাণবিক সততা’ নিশ্চিত করতে ইরান অস্ত্র পরিদর্শনে সম্মত হবে। যদি ইরান তাদের চুক্তি মেনে না চলে বা তারা ঠিকমতো আচরণ না করে, তাহলে আমাকে যা করার তা-ই করতে হবে।
ইরানকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার জন্য চুক্তির অধীনে পরিকল্পিত একাধিক পদক্ষেপের প্রথমটিতে মার্কিন ট্রেজারি ২১শে আগস্ট পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে। যার আওতায় তেহরানকে তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রি করে তার দাম নেওয়ার অনুমতি দেবে।
বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে ইরানের যে অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের আদেশে ফ্রিজড অবস্থায় আছে, সেসব অবমুক্ত করতে ইরানি প্রতিনিধিরা মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন ভ্যান্স। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি।
যদিও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা অস্বীকার করেছে।
তেহরান-ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে লেবাননে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার একটি প্রক্রিয়ায় সম্মত হয়েছে। এছাড়া কৌশলগত এই জলপথে সংঘাত এড়াতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি যোগাযোগ লাইন চালু করেছে।
সূত্র : রয়টার্স




