ট্রাম্পের 'শান্তি-ছকে' একের পর এক বাধা, ইসরায়েল-হামাসের শর্তে আটকে গাজার ভবিষ্যৎ
- ১৫ দফায় হামাসের অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন ও পুনর্গঠনের ছক; কিন্তু কে প্রথম পদক্ষেপ নেবে, সেই প্রশ্নেই অচলাবস্থা

ছবি: রয়টার্স
শান্তির গাড়ির স্টিয়ারিং এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। সামনে ১৫ দফার পথনকশাও তৈরি। কিন্তু দুই প্রধান ‘যাত্রী’ যেন কেউই আগে এগোতে রাজি নয়।
ইসরায়েলের অবস্থান–হামাস পুরোপুরি অস্ত্র না ছাড়লে গাজা থেকে সেনা সরবে না। হামাস বলছে ঠিক উল্টো কথা–আগে ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করতে হবে, সেনা সরাতে হবে এবং ত্রাণ প্রবেশ বাড়াতে হবে; তারপর অস্ত্রের প্রশ্নে পরবর্তী পদক্ষেপ।
ফলে গাজার যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নতুন ‘রোডম্যাপ’কে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরছেন, তার সামনের রাস্তায় এখনও বড় বড় গর্ত।
২০ দফা থেকে নতুন ১৫ দফা
এই প্রক্রিয়ার শুরু ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা দিয়ে। ওই পরিকল্পনায় যুদ্ধ বন্ধ, জিম্মিদের মুক্তি, গাজায় বিপুল মানবিক সহায়তা, হামাসকে প্রশাসন থেকে সরানো, অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস, আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন, ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সম্ভাব্য পথ তৈরির কথা বলা হয়েছিল।
২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২ হাজার ৮০৩ নম্বর প্রস্তাব ট্রাম্পের সামগ্রিক পরিকল্পনাকে সমর্থন করে। এর অধীনে গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ‘বোর্ড অব পিস’, ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদদের নিয়ে নতুন প্রশাসনিক কমিটি এবং একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কাঠামো তৈরি হয়।
কিন্তু প্রথম পরিকল্পনার বাস্তবায়ন থমকে যাওয়ায় ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ পরে আরও নির্দিষ্ট ১৫ দফার রোডম্যাপ সামনে আনেন। এর মূল নীতি–এক পক্ষ এক ধাপ এগোলে, যাচাইয়ের পর অন্য পক্ষও পাল্টা ধাপ নেবে। কাউকে শুধু প্রতিপক্ষের কথার উপর বিশ্বাস করতে হবে না; প্রতিটি পদক্ষেপ আলাদা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় যাচাই হবে। ম্লাদেনভ নিজেই বলেছেন, দুই পক্ষের পারস্পরিক বিশ্বাস এখন কার্যত ‘শূন্যের নিচে’।
১৫ দফায় আসলে কী আছে
নতুন রোডম্যাপের শুরুতেই ইসরায়েল ও হামাস–দুই পক্ষকে আগের শারম আল-শেখ যুদ্ধবিরতি চুক্তির অসম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। সামরিক অভিযান থামার পর সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের বিস্তারিত সময়সূচি তৈরির কথা রয়েছে।
এর পর গাজায় প্রবেশ করবে ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা বা এনসিএজি, যেটি ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদদের নিয়ে তৈরি অন্তর্বর্তী প্রশাসন। হামাস ও অন্য গোষ্ঠীগুলোকে বেসামরিক শাসন ও নিরাপত্তার দায়িত্ব এই কমিটির হাতে ছেড়ে দিতে হবে। প্রশাসনের মূলনীতি হবে–এক কর্তৃপক্ষ, এক আইন, এক অস্ত্রব্যবস্থা।
বর্তমান পুলিশ সদস্যদের যাচাই করা হবে; যোগ্য ব্যক্তিদের নতুন ব্যবস্থায় রাখা হবে। যাঁরা মানদণ্ড পূরণ করবেন না, তাঁদের বিকল্প বেসামরিক চাকরি অথবা আইন অনুযায়ী অবসরের সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সবচেয়ে কঠিন অংশটি অস্ত্র নিয়ে। হামাস ও অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ভারী অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির স্থাপনা, অস্ত্রভান্ডার এবং সুড়ঙ্গ ধাপে ধাপে নিষ্ক্রিয় ও সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে ফিলিস্তিনি এনসিএজি এবং তা হবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে। ইসরায়েল বা অন্য কোনো অ-ফিলিস্তিনি পক্ষের কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের কথা রোডম্যাপে নেই। প্রক্রিয়া শেষ হলে গাজায় অস্ত্রের উপর একমাত্র কর্তৃত্ব থাকবে নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসনের। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইসরায়েলি সেনাও গাজা থেকে ধাপে ধাপে সরে যাবে।
কে আগে? সেখানেই আসল গর্ত
কাগজে ব্যবস্থাটি ‘এক ধাপের বদলে এক ধাপ’। বাস্তবে ঠিক এখানেই সবচেয়ে বড় বিরোধ। ইসরায়েল বলেছে, আগে হামাসের প্রকৃত ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ। তারপর সেনা প্রত্যাহার।
হামাস বলেছে, আগে ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করে যুদ্ধবিরতির শর্ত পূরণ করতে হবে, সেনা পিছিয়ে নিতে হবে এবং ত্রাণ প্রবেশ বাড়াতে হবে। তারপর অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
হামাস ‘নিরস্ত্রীকরণ’ শব্দটিও গ্রহণ করতে চাইছে না। তাদের বক্তব্য, অস্ত্র ইসরায়েলের কাছে সমর্পণ নয়; নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে ইসরায়েল চাইছে হামাসের অস্ত্র কার্যকরভাবে গাজা থেকেই সরিয়ে দেওয়া হোক।
৩১ জুলাই পর্যন্ত ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে এই রোডম্যাপ অনুমোদন করেনি। দেশটির উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করে হামাস নেতাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ট্রাম্প তাই ‘অগ্রগতি’ দেখছেন যেখানে, দুই পক্ষ সেখানে এখনও প্রথম পদক্ষেপটি কার–সেই প্রশ্নেই দাঁড়িয়ে।
শান্তি পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি অবশ্য আলোচনার টেবিলে নয়, গাজার মাটিতে।
গত ৩০ জুলাই নতুন সমঝোতাকে শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি বলে ঘোষণা করেন ট্রাম্প। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই গাজায় আবার প্রাণঘাতী ইসরায়েলি হামলা হয়।
গত সোমবার (৩ আগস্ট) রয়টার্স জানিয়েছে, আগের দিনের হামলায় ১৮ ফিলিস্তিনি নিহত হন, যা গত বছরের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিনগুলোর একটি। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন; তাঁদের বেশির ভাগই বেসামরিক মানুষ বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। একই সময়ে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েল বলেছে, যুদ্ধবিরতির পর তার হামলাগুলোর লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকি প্রতিহত করা।
অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী মিশর, কাতার ও তুরস্ক যৌথভাবে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা করে বলেছে, এসব পদক্ষেপ চুক্তি লঙ্ঘন করছে এবং দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে।
৫৩ শতাংশ থেকে নিয়ন্ত্রণ ৬০–৭০ শতাংশে
আরও একটি গুরুতর বিরোধ ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ সীমারেখা নিয়ে। গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা থাকার কথা ছিল, পরে সেখান থেকেও ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের হিসাবে, সেই নিয়ন্ত্রিত এলাকা এখন বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে। ইসরায়েল বলছে, হামাসের সুড়ঙ্গ খোঁজা ও নিরাপত্তার প্রয়োজনেই এই ব্যবস্থা।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা গাজার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় হলুদ সীমারেখা আরও পশ্চিমে সরিয়ে আনার ফলে নতুন করে মানুষ ঘর ছাড়ছেন। গাজা সিটি, দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনিসসহ অন্তত পাঁচটি এলাকায় এমন বাস্তুচ্যুতির কথা জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
অর্থাৎ শান্তি পরিকল্পনায় ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও বাস্তবে এখন পর্যন্ত উল্টো দিকে যাওয়ার অভিযোগই বেশি।
হামাস সরকার ভেঙেছে, কিন্তু ক্ষমতা ছাড়েনি পুরোপুরি
রোডম্যাপের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত গাজার শাসনব্যবস্থা বদলানো।
বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) হামাস ঘোষণা করে, তারা গাজায় মন্ত্রণালয়গুলোর উপর নজর রাখা নিজেদের কার্যত সরকার বা জরুরি প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করেছে এবং ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদদের নতুন প্রশাসনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরে প্রস্তুত।
কিন্তু ইসরায়েল একে ‘লোক দেখানো পদক্ষেপ’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। কারণ হামাস জানিয়েছে, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা থাকবেন এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় নিরাপত্তা ও পুলিশ ব্যবস্থায় তাদের প্রভাবও থাকবে। ইসরায়েলের যুক্তি, অস্ত্র হাতে রেখে শুধু প্রশাসনের নাম বদলালে গাজার প্রকৃত ক্ষমতা নাকি হামাসের হাতেই থাকবে।
নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসনের প্রধান আলি শাথ বলেছেন, তাঁর ১৫ সদস্যের কমিটি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। কিন্তু প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, অর্থ এবং কাজ করার পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি।
ফলে শান্তি পরিকল্পনার জন্য তৈরি প্রশাসনটির অস্তিত্ব আছে, কিন্তু সেটি এখনও কার্যকরভাবে গাজার ভেতরেই ঢুকতে পারেনি। ৬ আগস্ট পর্যন্ত সেই পরিস্থিতি অপরিবর্তিত ছিল।
আন্তর্জাতিক সেনা আসবে, কিন্তু কবে?
পরিকল্পনায় রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী। এই বাহিনী সরাসরি গাজার সাধারণ মানুষের পুলিশ হিসেবে কাজ করবে না। তাদের দায়িত্ব হবে ইসরায়েলি সেনা ও নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রিত এলাকার মধ্যে নিরাপত্তা-ব্যবধান তৈরি করা, যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ এবং মানবিক ত্রাণ পৌঁছাতে সহায়তা করা। এই অংশে ৬ আগস্ট একটি নতুন অগ্রগতিও ঘটেছে। উগান্ডার সংসদ গাজায় প্রয়োজন হলে সেনা পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ট্রাম্প জুলাইয়ে দূতের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনির কাছে আন্তর্জাতিক বাহিনীতে উগান্ডার সেনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে বাহিনীটি কবে গাজায় মোতায়েন হবে, এখনও তার নির্দিষ্ট সময় নেই।
অর্থাৎ সেনা দিতে আগ্রহী দেশ পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু যে নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে তারা কাজ করবে, সেটিই এখনও পুরোপুরি দাঁড়ায়নি।
ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ নিয়েও প্রশ্ন
পুরো প্রক্রিয়ার মাথায় রয়েছে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’। ট্রাম্প নিজেই এর চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী কাঠামোয় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মতো ব্যক্তিরা রয়েছেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গাজার অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা তদারকির ক্ষেত্রে বোর্ডটিকে স্বীকৃতি দিলেও, এর বৃহত্তর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
সমালোচকদের আপত্তির একটি বড় জায়গা–গাজার ভবিষ্যৎ দেখভালের এই শীর্ষ বোর্ডে সরাসরি কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি নেই। কেউ কেউ কাঠামোটিকে অতিরিক্ত মার্কিন-নিয়ন্ত্রিত বলেও সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, পুরোনো কূটনৈতিক কাঠামোয় যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, সেটি ভাঙতেই নতুন ব্যবস্থা প্রয়োজন।
পুনর্গঠনও আটকে অস্ত্রের প্রশ্নে
দুই বছরের বেশি যুদ্ধের পর গাজার পুনর্গঠনের প্রয়োজন বিপুল। ট্রাম্পের বোর্ড জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশ গাজার পুনর্গঠনের জন্য ইতিমধ্যেই কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু পূর্ণমাত্রার পুনর্গঠন শুরু হওয়ার সঙ্গে হামাস ও অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণকে যুক্ত করা হয়েছে।
১৫ দফা রোডম্যাপেও বলা হয়েছে, গাজার পুনর্গঠনের অর্থ, পরিকল্পনা ও সময়সূচি যৌথভাবে দেখবে বোর্ড অব পিস এবং নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন।
এখানেও তৈরি হচ্ছে একই চক্র। হামাস অস্ত্রের প্রশ্নে অগ্রসর হওয়ার আগে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও হামলা বন্ধ দেখতে চায়। ইসরায়েল আবার পুনর্গঠন ও সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসকে নিরস্ত্র দেখতে চায়। ফলে যে গাজায় পুনর্গঠন সবচেয়ে জরুরি, রাজনৈতিক অচলাবস্থার মূল্যও সেই গাজার সাধারণ মানুষকেই দিতে হচ্ছে।
শেষ গন্তব্য ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র’, কিন্তু পথ অস্পষ্ট
ট্রাম্পের মূল ২০ দফার পরিকল্পনা এবং নতুন ১৫ দফা রোডম্যাপ–দুটিতেই শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক পথ তৈরির কথা রয়েছে। কিন্তু সেখানে কোনো নিশ্চিত সময়সীমা নেই। আগে অস্ত্র নিষ্ক্রিয় হবে, নতুন প্রশাসন দাঁড়াবে, আন্তর্জাতিক বাহিনী আসবে, ইসরায়েলি সেনা সরবে, পুনর্গঠন শুরু হবে, তারপর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। প্রতিটি ধাপই আবার আগের ধাপ সফল হওয়ার উপর নির্ভরশীল।
আর সেই প্রথম ধাপেই যদি ইসরায়েল ও হামাস দু’পক্ষই বলে, ‘আগে তুমি’, তবে ১৫ দফার পথনকশা কাগজেই আটকে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। ট্রাম্প তাই হয়তো গাজার শান্তির গাড়ির স্টিয়ারিং ধরেছেন। মানচিত্রও তাঁর হাতে। কিন্তু ইসরায়েল ও হামাসের পা যদি একই সঙ্গে ব্রেকে থাকে, আর যুদ্ধবিরতির রাস্তা যদি প্রতিদিন নতুন গর্তে ভরে ওঠে, তবে গন্তব্যের নাম ‘শান্তি’ হলেই সেখানে পৌঁছানো নিশ্চিত হয় না।




