ফ্লোটিলা কর্মীদের যৌন নির্যাতন: ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত

ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার কর্মীরা তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছে ছবি তুলছেন। ফাইল ছবি / রয়টার্স
গাজামুখী ত্রাণবহরের কর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ইতালির প্রসিকিউটররা। অভিযুক্তদের মধ্যে দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক, পুলিশ ও কারা কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রোমের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে গাজার দিকে যাওয়া ফ্লোটিলার নৌযান আটকের সময় নির্যাতন, অপহরণ, শারীরিক ক্ষতি, ছিনতাই ও সম্পত্তির ক্ষতির অভিযোগের তদন্ত করা হচ্ছে।
ইতালির ৫০ নাগরিকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তটি শুরু হয়েছে। তারা গত বছর ও চলতি বছর দুটি ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ অভিযানে আটক হয়েছিলেন। তদন্তে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান আইয়াল জামিরও রয়েছেন।
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের প্রথম অভিযানে আটক কর্মীরা মারধর, আহত করা, হত্যার হুমকি, গালিগালাজ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে দায় চাপানোর অভিযোগ করেছিলেন। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় অভিযানে আরও কঠোর আচরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে অন্ধকারে মারধর, বৈদ্যুতিক শক দেওয়া এবং রাবার বুলেট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
আটক কর্মীরা অন্তত ১৫টি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে।
আটক ইতালীয় অর্থনীতিবিদ লুকা পোগি মে মাসে রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমাদের কাপড় খুলে ফেলা হয়েছিল। মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল এবং লাথি মারা হয়েছিল।’
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের বিরুদ্ধেও আগে একই তদন্ত শুরু হয়েছিল। জুনে তিনি তদন্তের খবর নাকচ করে দিয়ে বলেন, তিনি ইসরায়েলি সেনাদের পাশে ‘গর্বের সঙ্গে’ থাকবেন।
ফ্লোটিলার আয়োজকরা বলছেন, গাজার ওপর ইসরায়েলের অবরোধ ভেঙে সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।
২০২৫ সালের প্রথম ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ ৪২টি নৌযান ও ৪৬২ জন কর্মী নিয়ে সেপ্টেম্বর মাসে বার্সেলোনা থেকে যাত্রা করে। ওই বছরের অক্টোবরের শুরুতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী বহরটি আটকে দেয়। কয়েকশ কর্মীকে আটক করার পর পরে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
দ্বিতীয় অভিযানটি ২০২৬ সালের এপ্রিলে বার্সেলোনা থেকে যাত্রা করে। ৩০ এপ্রিল গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে ইসরায়েলি বাহিনী নৌযান আটকানো শুরু করে। ১৯ মে পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রায় ৫০টি নৌযান থেকে প্রায় ৪৩০ জনকে আটক করা হয়। শেষ দফার আটকগুলো সাইপ্রাসের কাছে হয়।
পরে বেন-গভির একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। এতে দেখা যায়, আশদোদ বন্দরের একটি অস্থায়ী কারাগারে হাত বাঁধা অবস্থায় হাঁটু গেড়ে থাকা কর্মীদের তিনি কটাক্ষ করছেন। ওই সময় ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত বাজানো হচ্ছিল।
ইতালির প্রসিকিউটররা জুনে ইসরায়েলের কাছে বিচারিক সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং ব্যক্তিগতভাবে কার কী ভূমিকা ছিল, তা নির্ধারণের জন্য তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে ইসরায়েল এতে সাড়া দিয়েছে কি না, তা জানানো হয়নি।
এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিচারিক সহযোগিতা সংস্থা ইউরোজাস্টের সঙ্গেও আলোচনা করেছে ইতালির প্রসিকিউটররা। ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশেও এ ধরনের তদন্ত চলছে।
ইতালির আইনে বিদেশে ইতালীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচার রোমে করা যায়। তদন্তে অভিযোগগুলোর যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেলে প্রসিকিউটররা আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারের আবেদন করতে পারবেন।
সূত্র : আল জাজিরা




