নভেম্বরে সংসদ নির্বাচন
ভোটার তালিকায় নাম তুলতে ফিলিস্তিনিদের প্রতি হামাসের আহ্বান

ছবি: রয়টার্স
ফিলিস্তিনি সংসদ (আইনসভা) নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন ও তথ্য হালনাগাদের জন্য ফিলিস্তিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হামাস। আগামী ২৮ নভেম্বর ফিলিস্তিনি আইনসভা বা লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গত জুলাইয়ে আইনসভা নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে একটি ডিক্রি (আদেশ) জারি করেন।
এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, ‘আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করতে ফিলিস্তিনিদের দ্রুত ভোটার তালিকায় নিবন্ধন ও নিজেদের তথ্য হালনাগাদ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো, ফিলিস্তিনি জনগণের ঐক্য জোরদার করা এবং কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধতা জনগণের অবাধ ইচ্ছার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
ফিলিস্তিনি সংসদ কী
ফিলিস্তিনি আইনসভা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আইন প্রণয়নকারী শাখা। অসলো চুক্তির অংশ হিসেবে গঠিত এই পরিষদ পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা ও পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব করে।
এককক্ষবিশিষ্ট এই আইনসভায় মোট ১৩২টি আসন রয়েছে। এর মেয়াদ চার বছর। আইন প্রণয়নের পাশাপাশি নির্বাহী কর্তৃপক্ষের ওপর নজরদারি করাও এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
ফিলিস্তিনি মৌলিক আইন অনুযায়ী, আইনসভাই নির্বাচিত আইন প্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষ। খসড়া আইন নিয়ে আলোচনা, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বাজেট অনুমোদন এবং প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের অনুমোদনের ক্ষমতাও এই পরিষদের রয়েছে।
সাধারণত একটি খসড়া আইন তিন দফা পাঠের মধ্য দিয়ে যায়। প্রতিটি ধারা নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা ও ভোট হয়। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অনুমোদনের পর খসড়াটি প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয় অনুমোদন ও প্রকাশের জন্য।
সরকারের কাছে প্রশ্ন উত্থাপন, তদন্ত কমিটি গঠন এবং সরকার বা কোনো মন্ত্রীর ওপর থেকে আস্থা প্রত্যাহারের ক্ষমতাও আইনসভার রয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ বাজেট, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ অনুমোদনের দায়িত্বও পরিষদটির।
দীর্ঘ অচলাবস্থার পর নির্বাচন
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিলিস্তিনি আইনসভা নানা সংকটের মুখে পড়েছে। এ পর্যন্ত মাত্র দুবার আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে—১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে। প্রথম নির্বাচনে ফাতাহ এবং দ্বিতীয় নির্বাচনে হামাস জয়ী হয়।
২০০৭ সালে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হওয়ার পর থেকে আইনসভা নিয়মিত অধিবেশনে বসেনি। ফলে কার্যত পরিষদটির কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে।
আইনসভা অকার্যকর হয়ে যাওয়ার পর মাহমুদ আব্বাস ক্রমেই প্রেসিডেন্টের ডিক্রির মাধ্যমে শাসন পরিচালনা করেছেন। মৌলিক আইনে পরিষদ অধিবেশনে না থাকলে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে এ ধরনের ডিক্রি জারির সুযোগ রয়েছে।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ফিলিস্তিনি সাংবিধানিক আদালত ২০০৬ সালে নির্বাচিত আইনসভা ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানায়। পরে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মাহমুদ আব্বাস একটি ডিক্রি জারি করে ওই বছরের ২২ মে আইনসভা নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেন। তবে পরবর্তী সময়ে নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।
এরপর গত ৯ জুলাই মাহমুদ আব্বাস নতুন করে প্রেসিডেন্টের ডিক্রি জারি করে ২০২৬ সালের ২৮ নভেম্বর ফিলিস্তিনি আইনসভা নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর এই নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ ফিলিস্তিনি রাজনীতিতে নতুন করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনা তৈরি করেছে।




