এরদোয়ানের দরবারে ট্রাম্পের আশীর্বাদপুষ্ট ভেনেজুয়েলার দেলসি, কী তার চাওয়া

ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। ছবি:
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সোমবার এক সরকারি সফরে তুরস্ক যাচ্ছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-কে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, এই সফরকালে রদ্রিগেজ ইস্তাম্বুলে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
রদ্রিগেজ গত সপ্তাহ থেকে ভারতে রয়েছেন , যেখানে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করছেন। এই সফরের পরবর্তী পর্যায় হিসেবে তিনি ইস্তাম্বুলে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তুরস্ক ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে শক্তিশালী রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এরদোয়ান ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন, যাকে জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী অপহরণ করে নিউইয়র্কের একটি আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করে এবং তিনি একটি ফেডারেল ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন।
মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশীর্বাদে রদ্রিগেজ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি ভেনিজুয়েলায় ওয়াশিংটনের স্বার্থের সম্প্রসারণের তত্ত্বাবধান করেছেন, যার মধ্যে তেল কোম্পানি শেভরনের স্বার্থও অন্তর্ভুক্ত।
২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্কিত ফলাফলের পর ভেনিজুয়েলার বিরোধী-নেতৃত্বাধীন জাতীয় পরিষদ মাদুরোকে ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি একাধিকবার তুরস্ক সফর করেন এবং এরদোয়ানের কাছ থেকে প্রকাশ্য সমর্থন লাভ করেন।
তখন এরদোয়ান মাদুরোকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘ভাই, আপনাকে দৃঢ় থাকতে হবে। আমরা আপনার সঙ্গে আছি।’
২০১৬ সালের জুলাই মাসে এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টার পর তাকে ফোন করা প্রথম নেতাদের মধ্যে মাদুরোও একজন ছিলেন, যার ফলস্বরূপ ২০২৩ সাল নাগাদ বিশেষ করে খনি ও স্বর্ণ খাতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লেনদেন সম্পন্ন হয়।
আসন্ন সফর সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, রদ্রিগেজ বিগত বছরগুলোতে তুরস্কের সমর্থনের কথা এখনও স্মরণ করেন এবং নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও গভীর করতে আগ্রহী।
ভেনিজুয়েলার বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আঙ্কারা দেশটির তেল ও স্বর্ণ খাতে বিশেষভাবে আগ্রহী হতে পারে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তুরস্ক ও ভেনিজুয়েলার জ্বালানি মন্ত্রীরা তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং খনিজ সম্পদ সংক্রান্ত দুটি পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। সেই বছরের শেষের দিকে মাদুরো গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, দুই দেশ দক্ষিণ ভেনিজুয়েলার স্বর্ণক্ষেত্র থেকে তুরস্কের স্বর্ণ উত্তোলনের জন্য একটি চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেছে।
তবে, ভেনিজুয়েলার জ্বালানি ও খনি খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা উভয় দেশকে এই ক্ষেত্রগুলোতে আরও উদ্যোগ গ্রহণে বাধা দিয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন সেই নিষেধাজ্ঞাগুলোর কয়েকটি শিথিল করেছে, যা তুরস্কের সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের পথ খুলে দিতে পারে।
২০১৯ সালের দিকে তুরস্ক পণ্য রপ্তানির বিনিময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সোনা আমদানি করছিল। তবে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তদন্তের আওতায় আসায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বাণিজ্যের পরিমাণ কমে আসে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই




