শাসকগোষ্ঠীর জাঁতাকলে পড়ার শঙ্কায় বহু ইরানি

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সরকার অভ্যন্তরীণ দমনে আরও কঠোর হবে, এমন আশঙ্কায় দিন কাটছে বহু ইরানির
ইরানে যুদ্ধবিরতি চললেও জনমনে স্বস্তি নেই। বরং অদৃশ্য এক আতঙ্ক গ্রাস করেছে বহু ইরানিকে। সংঘাত ও অস্থিরতা ছাপিয়ে দেশটিতে এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী অবস্থানে। ফলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সরকার অভ্যন্তরীণ দমনে আরও কঠোর হবে, এমন আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।
বিবিসির সংগৃহীত তথ্যে উঠে এসেছে তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহ এই চিত্র।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিক্ষোভ ও সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর তেহরানের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশা জেগেছিল। শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুতে অনেকে আশাবাদী হলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
ইরানের একটি অংশের মানুষজন বলছেন, শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার বদলে তা এখন রেভল্যুশনারি গার্ডসের কব্জায় আরও বেশি সংকুচিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি বিরোধীদের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি করেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে দেশটিতে অন্তত ৫৩ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালীন এই ধরপাকড় থামেনি।
গত ৩০ বছরের ইতিহাসে এই সংক্ষিপ্ত সময়ে রেকর্ড সংখ্যক রাজনৈতিক বন্দিকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের সময় অন্তত ২১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে তেহরান।
কারাগারে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আইনজীবীরা। আগে কেবল সশস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোরতা চলত, কিন্তু এখন সাধারণ রাজনৈতিক বন্দিদের ওপরও প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
পেশায় আইনজীবী সুজান (ছদ্মনাম) জানান, যুদ্ধের সময় বন্দিদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়েছে।
তিনি বলেছেন, আগে যারা সশস্ত্র ছিল কেবল তাদের ওপর কঠোরতা দেখানো হতো, কিন্তু এখন সাধারণ প্রতিবাদকারীদেরও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হলে সরকার বন্দিদের ওপর এই যুদ্ধের সমস্ত ক্ষোভ উগড়ে দেবে এমনটাই আমাদের আশঙ্কা।
অন্যদিকে, সাংবাদিকদের জন্য কাজের পরিবেশ হয়ে উঠেছে মৃত্যুফাঁদ। আরমিন (ছদ্মনাম) নামে এক সাংবাদিক জানান, আগে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হতো এমন প্রতিবেদনকে এখন গুপ্তচরবৃত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানি আইনে গুপ্তচরবৃত্তির সাজা মৃত্যুদণ্ড।
তিনি বলেছেন, ‘আগে আমরা আন্দোলনের প্রভাব নিয়ে ভাবতাম, আর এখন কেবল নিজে এবং পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাই।’
সূত্র : বিবিসি।



