হরমুজ নিয়ে নতুন সমঝোতার পথে ইরান-ওমান, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি তেহরানের

ছবি: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। একদিকে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ভাগাভাগি করে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ওমানের সঙ্গে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে ইরান। অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে মার্কিন বাহিনী ও যুদ্ধজাহাজকে ‘গুরুতর ঝুঁকি ও হতাহতের’ মুখে পড়তে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এরই মধ্যে কাতার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রচেষ্টা এখনো চলছে।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো ওমান ছাড়পত্র দেবে। তবে তা হবে ইরানকে আগে থেকেই অবহিত করার পর। এতে প্রণালি দিয়ে বের হওয়া সব জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবে তেহরান এবং প্রয়োজন মনে করলে হস্তক্ষেপও করতে পারবে।
ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পরিকল্পনার বাইরে অন্য কোনো বিকল্প গ্রহণে ইরান আগ্রহী নয়।
কাতারের দাবি, যোগাযোগ চলছে
এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র মঙ্গলবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বললেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে পারি, সব পক্ষের সঙ্গে প্রচেষ্টা চলছে। আমরা কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছি।’
তার ভাষায়, ‘এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আলোচনার টেবিলে ফিরে যাওয়া।’
এর এক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে ‘এই মুহূর্তেই’ আলোচনা চলছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।
মার্কিন অবরোধ চললে ‘বড় মূল্য’ গুনতে হবে
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে মার্কিন বাহিনীকে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বললেন, ‘অবরোধ চলতে থাকলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বাহিনী গুরুতর ঝুঁকি ও হতাহতের মুখে পড়বে।’
তিনি আরও বললেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে, অন্যথায় আমরা এটি মেনে নেব না। হরমুজ প্রণালিতে দ্বিতীয় কোনো করিডর খোলারও অনুমতি আমরা কখনো দেব না।’
রোমে আবারও মুখোমুখি লেবানন-ইসরায়েল
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইতালির রাজধানী রোমে নতুন দফার সরাসরি আলোচনায় বসেছে লেবানন ও ইসরায়েল।
বৈঠকে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। জুনে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আগের দফার আলোচনায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ, দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের একটি কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছিল। তবে তখনই সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে হিজবুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলার কথা থাকা এই বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত সপ্তম দফার আলোচনা।
এর আগে হিজবুল্লাহর নেতা নাইম কাসেম বলেছিলেন, সরাসরি এই আলোচনা লেবাননের জন্য ‘লজ্জা, অপমান ও একের পর এক আপস’ ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনবে না।






