পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ‘অন্ধকারে ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি ইরানের

৪ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায়, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ‘অন্ধকারে ডুবিয়ে দেওয়া হবে’—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি গত সপ্তাহে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে পৌঁছে দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে হামলার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকাও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার হুমকি দেওয়ার পরই এই বার্তা পাঠানো হয়। তবে পরে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের অনুরোধ এবং কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির আশায় ট্রাম্প সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন।
উপসাগরীয় দেশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান স্পষ্টভাবে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায়, তাহলে উপসাগরীয় দেশগুলোকে একে একে বিদ্যুৎহীন করে দেওয়া হবে। আরেক আঞ্চলিক কর্মকর্তাও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় দুজনই নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, পরিকল্পিত হামলাটি হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান হতো। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর একই ধরনের স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হবে।
এর আগেও প্রকাশ্যে এমন হুমকি দিলেও এবার বার্তাটি ছিল অনেক বেশি গুরুতর। এক কর্মকর্তার দাবি, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর একটি দীর্ঘ তালিকাও এতে যুক্ত ছিল।
গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে প্রতিটি হামলার জবাবে ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন। এর জবাবে তেহরান ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে প্রতিশোধের কথা জানিয়েছিল। পরে মার্কিন কর্মকর্তারা পাল্টা বলেন, ট্রাম্পের জবাব হবে ‘চোখের বদলে মাথা’।
উপসাগরীয় ওই কর্মকর্তার দাবি, ইরানের বার্তায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রেও হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। মরুভূমিপ্রধান উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশই সুপেয় পানির জন্য এসব কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল।
ট্রাম্প হামলার পরিকল্পনা বাতিল করার পর সৌদি আরব জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চল। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে।
এপ্রিল ও জুনে যুদ্ধবিরতি এবং সমঝোতা স্মারক হলেও বিচ্ছিন্ন হামলা অব্যাহত ছিল। তবে জুলাইয়ে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর হামলার মাত্রা ও সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সূত্র : দ্য নিউ আরব





