পশ্চিম তীরে আরও ৩৪টি বসতি স্থাপনের অনুমোদন ইসরায়েলের

সংগৃহীত ছবি
ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিম তীরে নতুন করে আরও ৩৪টি অবৈধ বসতি স্থাপনের গোপন অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল সরকার। গত ১ এপ্রিল এই সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির মন্ত্রিসভা।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, চলতি বছরের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিম তীরকে কার্যত ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতেই নেওয়া হয়েছে এই পদক্ষেপ।
২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অতি-ডানপন্থী জোট সরকার দেশটির ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ বসতি নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নে তৎপর। ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত তারা অনুমোদন দিয়েছে ১০০টিরও বেশি অবৈধ বসতি স্থাপনের।
গত সপ্তাহের নতুন সিদ্ধান্তটি ইসরায়েলের ইতিহাসে এককভাবে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ। যা ১৯৯৩ সালের ঐতিহাসিক ওসলো চুক্তির পর পরবর্তী তিন দশকে অনুমোদিত বসতির তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি।
নতুন এই বসতিগুলোর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো মূলত ফিলিস্তিনি জনবসতির একদম গভীরে। বসতিগুলো এমন দুর্গম এলাকায় তৈরি করা হবে, যেখানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি খুবই সামান্য।
নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই পরিকল্পনা অনুমোদিত হওয়ায় ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে দেশটির সেনাপ্রধান এয়াল জামির এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইতিমধ্যেই চাপে থাকা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ওপর এই ডজনখানেক নতুন বসতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাড়তি দায়িত্ব তৈরি করবে বড় ধরনের সংকট।
অবশ্য জামির দেশটির সেনাবাহিনী নিয়ে আগেও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছিলেন, লোকবল সংকট নিরসন না হলে ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
এদিকে, বসতি সম্প্রসারণের এই বিষয়টিকে পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়িত করার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হিসেবে দেখছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ইয়েশ দিন জানিয়েছে, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের জনশূন্য করা।
সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘যখন আমরা বোমা থেকে বাঁচতে আশ্রয়ের জন্য দৌড়াচ্ছি, তখন মন্ত্রিসভার সদস্যরা পরিকল্পনা করছে পশ্চিম তীরে ডজনখানেক নতুন বসতি স্থাপনের। এটি মূলত অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের সেই এথনিক ক্লিনজিং বা জাতিগত নিধনের পরিকল্পনাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।’
অন্যদিকে, বসতিবিরোধী ইসরায়েলি এনজিও পিস নাও বলেছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকার একটি উন্মাদনায় মেতেছে। মাটিতে দখলদারিত্বের নতুন নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে চাইছে তারা।
বসতি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সাথে পাল্লা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলিদের অত্যাচারও চরম আকার ধারণ করেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই সংখ্যাটি পুরো ২০২৫ সালের মোট বাস্তুচ্যুতির পরিসংখ্যানকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৪ সাল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে আরও কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।
সূত্র: দ্য নিউ আরব















