সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় ফোনালাপ আরাঘচির

সংগৃহীত ছবি
বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে এ তথ্য।
এর আগে রবিবার আরাঘচি আসিম মুনির এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন। একই দিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো পাঁচ মাসের সংঘাতের অবসানে একটি সমঝোতার ‘মূল কাঠামোতে’ পৌঁছেছে। এ কারণে তিনি পরিকল্পিত সামরিক অভিযান স্থগিত করেছেন। তবে বিরতির অনুরোধ ইরানই করেছিল—ট্রাম্পের এ দাবি প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছে তেহরান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে তারা।
সোমবারের ফোনালাপ সম্পর্কে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ‘পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আরও জোরদারের লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে তারা পর্যালোচনা ও মতবিনিময় করেছেন।’
ইরনা আরও জানিয়েছে, ‘এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতার সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সমাধান কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও উভয় পক্ষ জোর দিয়েছেন।’
নতুন করে এ কূটনৈতিক যোগাযোগ এমন সময়ে হলো, যখন ট্রাম্প বলেছেন, সোমবার থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আরেক দফা আলোচনা শুরু হবে। তবে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেননি। প্রস্তাবিত আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং বৈশ্বিক তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরাঘচি রবিবার সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ কিংবা এ ধরনের পদক্ষেপে আঞ্চলিক কোনো দেশের অংশগ্রহণের জবাবে ইরান ‘দৃঢ় ও সমানুপাতিক’ প্রতিক্রিয়া জানাবে।
উভয় পক্ষের কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকির পর ট্রাম্পের আপাত উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ এ যুদ্ধের আরেকটি নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ সময়ে সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চল ছাড়িয়ে লোহিত সাগর এবং এমনকি মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের একটি স্থাপনাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্বল্পমেয়াদে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াও গ্রহণযোগ্য। তবে এ অর্থনৈতিক চাপ সংঘাতের অবসানের পথ খুঁজে বের করতে তার ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে।






