পরিচ্ছন্ন শহরে ‘নো কম্প্রোমাইজ’, দুবাইয়ে এক লাখ দিরহাম করে জরিমানা
- অবৈধভাবে বর্জ্যপানি ফেলার ভিডিও প্রকাশ দুবাই মিউনিসিপ্যালিটির, জব্দ একাধিক গাড়ি
- পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে ‘শূন্য সহনশীলতা’র বার্তা

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে ‘শূন্য সহনশীলতা’র বার্তা দুবাই মিউনিসিপ্যালিটির
রাতের অন্ধকার হোক বা শহরের আড়াল, ট্যাংকারে করে বর্জ্যপানি এনে যেখানে-সেখানে ফেলে চলে যাওয়ার সুযোগ আর মিলছে না দুবাইয়ে। অনুমোদিত স্থানের বাইরে অবৈধভাবে বর্জ্যপানি ফেলার সময় একাধিক ট্যাংকারকে হাতেনাতে ধরেছে দুবাই মিউনিসিপ্যালিটি। সোমবার এসব গাড়ি জব্দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের প্রত্যেক লঙ্ঘনের জন্য এক লাখ দিরহাম করে জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, শহরের পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করা হবে না।
দুবাই মিউনিসিপ্যালিটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এক নজরদারি অভিযানে একাধিক বর্জ্যবাহী ট্যাংকারকে নির্ধারিত নিষ্কাশনকেন্দ্রের বাইরে বর্জ্যপানি ফেলতে দেখা যায়। ঠিক কোন কোন এলাকায় গাড়িগুলো ধরা পড়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে মোট কতটি ট্যাংকার জব্দ হয়েছে, সেই সংখ্যাও কর্তৃপক্ষ জানায়নি। তবে অভিযানকারীরা কয়েকটি ট্যাংকারকে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলার সময় শনাক্ত করেন এবং পরে সেগুলো টেনে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে প্রকাশ করা হয়।
কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের বর্জ্যপানি খোলা জায়গা, সড়কের পাশ কিংবা অনুমোদনহীন স্থানে ফেলা শুধু শহরের পরিচ্ছন্নতার ক্ষতি করে না, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অপরিশোধিত বা দূষিত পানি মাটি, ভূগর্ভস্থ পানি কিংবা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনব্যবস্থায় ঢুকে পড়লে দূষণ আরও বিস্তৃত হতে পারে।
বর্তমান অভিযানে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে দুবাইয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের ২০১৫ সালের ১৪ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। ওই সিদ্ধান্তে জনপরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অপরাধ ও শাস্তির তালিকা সংশোধন করা হয়। আইনে স্পষ্ট বলা আছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও কোনো উপায়ে বর্জ্যপানি ফেলা নিষিদ্ধ। এমন অপরাধে প্রতিবার এক লাখ দিরহাম জরিমানার পাশাপাশি ব্যবহৃত গাড়িও জব্দ করার বিধান রয়েছে। দুবাই মিউনিসিপ্যালিটির সরকারি আইনতালিকাতেও এই বিধান এখনও বহাল রয়েছে।
শুধু অবৈধভাবে বর্জ্যপানি ফেলার ক্ষেত্রেই নয়, সংশ্লিষ্ট আরও কয়েক ধরনের অনিয়মে বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে। কোনো ভবন বা সেপটিক ট্যাংক থেকে বর্জ্যপানি চুইয়ে পড়লে ১০ হাজার দিরহাম জরিমানা হতে পারে। কংক্রিট মিক্সার ট্রাক থেকে তরল বা অন্য উপাদান রাস্তায় পড়ে গেলে কিংবা অনিয়মিতভাবে ফেলা হলে জরিমানা ৫০ হাজার দিরহাম। আবার ব্যবহৃত তেল পয়ঃনিষ্কাশন নেটওয়ার্ক, সেপটিক গর্ত বা রাস্তায় ফেললে তিন হাজার দিরহাম জরিমানার বিধান রয়েছে।
দুবাইয়ে এমন অনিয়ম অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও কিছু ট্যাংকারচালক নির্ধারিত শোধনাগারে না গিয়ে সময় ও খরচ বাঁচাতে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের নালা বা খোলা জায়গায় অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলেছেন। ২০০৮ সালেও একই অপরাধে এক লাখ দিরহাম জরিমানা এবং ট্যাংকার জব্দের বিধান কার্যকর করা হয়েছিল। তখন কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছিল, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের নেটওয়ার্কে পয়ঃবর্জ্য ঢুকলে সেই দূষিত পানি শেষ পর্যন্ত সমুদ্র বা সৈকত এলাকায় পৌঁছতে পারে।
বর্তমানে নজরদারিও আগের চেয়ে প্রযুক্তিনির্ভর। দুবাই মিউনিসিপ্যালিটি বেসরকারি বর্জ্য সংগ্রহকারী গাড়িগুলোকে জিপিএসের মাধ্যমে নজরদারির আওতায় রেখেছে, যাতে অনুমোদিত পথ ও নিষ্কাশনস্থল থেকে বিচ্যুতি শনাক্ত করা যায়। পাশাপাশি ২০২৫ সালে চালু করা ‘ইলতিজাম’ ব্যবস্থায় অনুমোদিত কর্মকর্তারা ছবি, অবস্থান ও নোটসহ পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক আইনভঙ্গের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নথিভুক্ত করতে পারেন।
দুবাই মিউনিসিপ্যালিটি জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান পুরো আমিরাতজুড়েই চলবে। তাদের বক্তব্য, বিশ্বের পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল শহরগুলোর একটি হিসেবে দুবাইয়ের অবস্থান ধরে রাখতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বজায় থাকবে।
শহরের আলো ঝলমলে রাস্তা পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু ঝাড়ু দেওয়ার কাজ নয়, তার নিচের নালা, মাটি আর পানিকেও দূষণমুক্ত রাখতে হয়। তাই কয়েকটি ট্যাংকার জব্দের ঘটনাকে নিছক ট্রাফিক বা পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক অভিযান হিসেবে দেখছে না দুবাই। বার্তাটি আরও বড়—বর্জ্য চোখের আড়ালে ফেলে দিলেই অপরাধও আড়ালে চলে যাবে, সেই দিন শেষ।






