হামলার পর হামলা তবু ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আরামকো
- সৌদির তেল উৎপাদন সচল রাখার নেপথ্য কাহিনি

ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ। চালকবিহীন উড়োজাহাজের আঘাতে পুড়ে যায় পাম্পিং কেন্দ্র। উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায় ধ্বংসস্তূপ। অথচ পরদিনই সেখানে নামে সারি সারি খনন যন্ত্র। শুরু হয় নতুন বিকল্প পাইপলাইন বসানোর জরুরি কাজ। কয়েক দিনের মধ্যেই পাইপলাইনে ফের প্রবাহিত হয় তেল। যুদ্ধের মধ্যেও উৎপাদন ফেরানোর এই তৎপরতার নেপথ্যে রয়েছে সৌদি আরামকোর দীর্ঘ প্রস্তুতি।
গত বৃহস্পতিবার রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই কাহিনি। গত সেপ্টেম্বরে আরামকোর বৃহত্তম তেল পাইপলাইনে হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত পাম্পিং কেন্দ্রের পাশে বিকল্প সংযোগ স্থাপন করে তেল সরবরাহ ফেরানো হয়। বহু বছরের অভিজ্ঞতায় জরুরি মেরামতের ব্যবস্থা গড়েছে রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থাটি। উদ্দেশ্য একটাই, একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যেন পুরো সরবরাহব্যবস্থা দীর্ঘদিন অচল না থাকে।
আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের গত সপ্তাহে রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমাদের দল এখন একই সঙ্গে একাধিক ঘটনা সামাল দিতে পারে। এই সক্ষমতা আমরা আরও বাড়াচ্ছি।’ তার কথায়, ২০১৯ সালে আবকাইকের প্রধান তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র এবং চালকবিহীন উড়োজাহাজের হামলাই ছিল বড় শিক্ষা। তখন সাময়িকভাবে আরামকোর প্রায় অর্ধেক উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
সেই ধাক্কার পর গড়া হয় বিশেষ জরুরি সাড়াদান ও মেরামতকারী দল। নাম দেওয়া হয় ‘শূন্য ঘণ্টার সাড়াদানকারী’। গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ মজুদ রাখা হয় কাছাকাছি গুদামে। স্থানীয়ভাবেও তৈরি হচ্ছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। এতে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আসার দীর্ঘ অপেক্ষা এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। নাসেরের হিসাবে, মেরামতে ব্যবহৃত প্রায় ৯০ শতাংশ উপকরণ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কিংবা স্থানীয় গুদামে সংরক্ষিত।
বদল এসেছে ক্ষয়ক্ষতি যাচাইয়ের পদ্ধতিতেও। সাধারণত দুর্ঘটনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে মেরামতের পরিকল্পনা শুরু হয়। আরামকো হামলা চলার সময়ই আকাশে নজরদারি উড়োজাহাজ পাঠিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে। নাসের বলেছেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই আমরা কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলি।’ তার দাবি, তাদের সাড়াদানের গতি এখন শিল্প খাতের গড়ের তুলনায় ছয় গুণেরও বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনায় কখন প্রকৌশলী পৌঁছাবেন এবং কোন যন্ত্রাংশ লাগবে, তার প্রস্তুতি তাই আগেই নেওয়া যায়।



