চলমান যুদ্ধ কখন শেষ হবে জানালেন আরাঘচি
- ‘কৌশলগত সুবিধা’ নিশ্চিত করার পরই যুদ্ধের অবসান ঘটাবে ইরান
- হরমুজে নৌপরিবহন সুরক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান রুবিওর
- জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলা ইরানের
- হরমুজের জাহাজে হামলা
- তেলের দাম পৌঁছেছে ৯০ ডলারে

আব্বাস আরাঘচি- রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কখন শেষ হবে হবে তা স্পষ্ট করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ‘কৌশলগত সুবিধা’ নিশ্চিত করার পরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাবে ইরান। তার এ বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলছে, নির্ণায়ক সামরিক সুবিধা অর্জনের আগে এই সংঘাত শেষ করার কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা দেখছে না তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেছেন, যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো কখন যুদ্ধ থামানো হবে এবং কখন আলোচনায় বসা হবে, সেই সঠিক সময় নির্ধারণ করা।
তিনি বললেন, ‘যুদ্ধের সমাপ্তি হতে পারে হয় পূর্ণাঙ্গ সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে, নয়তো আলোচনার মাধ্যমে। আলোচনার সঠিক সময় হলো তখনই, যখন সামরিক ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য কৌশলগত ও যুদ্ধক্ষেত্রের সাফল্য অর্জিত হবে।’
আরাঘচি জোর দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিক চাপের ভিত্তিতে নেওয়া সম্ভব নয়। ইরানের জনগণের জীবন ও দেশের ভবিষ্যতের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌপরিবহন সুরক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান আঞ্চলিক সংঘাতে এই কৌশলগত জলপথকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
ফিলিপাইনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের রুবিও বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌপরিবহন নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তবে বিশ্বের ব্যস্ততম নৌপথগুলোর একটি রক্ষার দায়িত্ব ভাগ করে নিতে অন্য দেশগুলোকেও সরঞ্জাম, সক্ষমতা বা অর্থায়নের মাধ্যমে অবদান রাখা উচিত।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা আকাবা বিমানবন্দরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং একটি পি-৮ নজরদারি বিমানের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তাদের দাবি, এতে কয়েকটি বিমান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ব্যবহৃত ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রেও তারা হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েক ডজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে তারা।
তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডানের কর্তৃপক্ষও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে সর্বশেষ উত্তেজনার জেরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে আইআরজিসির হামলায় একটি জাহাজে আগুন লেগেছে।




