জর্ডানে জোরাল হয়েছে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি জোরালো হয়েছে। দেশটির ১৩০ জনের বেশি বিশিষ্ট নাগরিকের যৌথ বিবৃতির পর এবার শত শত রাজনৈতিক নেতা ও আইনজ্ঞের স্বাক্ষরিত একটি খোলা চিঠিও প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই দাবির পেছনে ইরান জর্ডানের অভ্যন্তরে বিভেদ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এক ইসরায়েলি বিশ্লেষক।
রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শ্রমিক নেতা ও উপজাতীয় প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডান কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধের পক্ষ নয়। তাই দেশটির ভূখণ্ডকে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি বা আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের দাবি, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনে বাতিল বা সংশোধন করা উচিত, যাতে জর্ডানের জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অক্ষুণ্ন থাকে। সমালোচকদের মতে, ওই চুক্তির আওতায় মার্কিন বাহিনী জর্ডানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ব্যবহার এবং অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আনা-নেওয়ার বিস্তৃত সুবিধা পায়।
মার্কিন কংগ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জর্ডানে প্রায় ৪ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। দেশটির মুয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিসহ একাধিক সম্মত সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব ঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান, নজরদারি ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতা পরিচালিত হয়। ১৯৫১ সাল থেকে ২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র জর্ডানকে প্রায় ৩৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার দ্বিপক্ষীয় সহায়তা এবং অতিরিক্ত ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার নিরাপত্তা সহায়তা দিয়েছে।
একই ধরনের বক্তব্য উঠে এসেছে শত শত জর্ডানীয় রাজনৈতিক ও আইনজ্ঞের স্বাক্ষরিত খোলা চিঠিতেও। সেখানে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জর্ডানকে এমন নিরাপত্তা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে ফেলছে, যা দেশের কোনো জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
তবে দ্য জেরুজালেম পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক রোনেন ইৎজাক দাবি করেন, এই আন্দোলনের মাধ্যমে জর্ডানের জনগণ ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থক সরকারের মধ্যে দূরত্ব বাড়াতে এবং দেশটির ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায় ইরান। তার মতে, ফিলিস্তিনি ও জর্ডানের আদিবাসী—উভয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের এ উদ্যোগে যুক্ত হওয়া পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
অন্যদিকে জর্ডান সরকার আগেই জানিয়েছে, দেশটিতে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি ২০২১ সালের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ এবং এটি জর্ডানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখেই পরিচালিত হচ্ছে।






