মার্কিন সিনেটর, ‘নেতানিয়াহুর বক্তব্য অসম্মানজনক’, ইসরায়েল যুদ্ধ বাড়াতে চাইছে, বলছে ইরান

জেরুজালেমে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে বক্তব্য দেওয়ার দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
ইরান যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেওয়া ভিডিও বার্তার তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ। তার ভাষায়, নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্য আমেরিকানদের জন্য ‘চরম অসম্মানজনক ও ভীষণ বিরক্তিকর’।
হাওয়াইয়ের জ্যেষ্ঠ সিনেটর শ্যাটজ রবিবার এক্সে লিখেছেন, ‘নেতানিয়াহু সরাসরি ক্যামেরার সামনে আমেরিকানদের উদ্দেশে এ যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন এবং পেট্রলের দাম নিয়ে ক্ষুব্ধ হওয়ার জন্য আমাদের ধমক দিচ্ছেন। এমন বার্তা অত্যন্ত অসম্মানজনক ও ভীষণ বিরক্তিকর।’
এমন সময় তিনি এ মন্তব্য করলেন, যখন ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুকে ‘পূর্ণ ও সম্পূর্ণ সমর্থন’ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে ট্রুথ সোশ্যালে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘তাদের (ইরান) সামরিক ও আর্থিকভাবে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তারা দ্রুত নিজেদের পথ না বদলালে আমরা শিগগিরই কাজ শেষ করব।’
নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলে ‘ভুল নেতা’ ক্ষমতায় এলে ‘আমেরিকাকেই এ কাজ করতে হবে।’
ট্রাম্পের সমর্থনের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘হোয়াইট হাউজে ইসরায়েলের এর চেয়ে বড় বন্ধু কখনো ছিল না।’ পরে ট্রাম্পের সমর্থনের প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরও বলেছেন, ‘একসঙ্গে আমরা (ইরানের বিরুদ্ধে) অভিযান সম্পন্ন করব।’
রবিবার ইসরায়েলি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
নেতানিয়াহুর দাবি, ইসরায়েলের শত্রুদের পরাজিত করতে প্রয়োজনীয় কাজের ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ইরানের অর্থনৈতিক সংকট ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে দেশটির সরকারের দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবেও তুলে ধরেছেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘এ সরকারকে একবারে এবং চিরতরে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।’ প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই ইসরায়েল পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, কারাগারে যাওয়া এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি ইরান যুদ্ধে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু।
রবিবার রাতে এক্সে আরাঘচি লিখেছেন, ‘কারাগারে যাওয়া এড়াতে নেতানিয়াহু আমেরিকাকে আরেকটি যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছেন।’ তার অভিযোগ, এতে ইসরায়েল ও ট্রাম্পের জন্য কী পরিণতি হতে পারে, তা উপেক্ষা করছেন নেতানিয়াহু।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আরাঘচি। তিনি বলেছেন, ‘গতবার আপনারা ‘‘কাজ শেষ করতে’‘ চেয়েছিলেন, ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছে। আবার ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান? স্বাগতম। তবে সাবধান; আমাদেরও কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে।’
২০২২ সালের শেষ দিক থেকে বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু। তার সরকারকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থী সরকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে দুর্নীতির অভিযোগে তার বিচার চলছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার কারাদণ্ড হতে পারে।
বিরোধী দলগুলোও নির্বাচনে নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে একটি কাঠামোগত সমঝোতা হলেও পরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনা থমকে যায়। এরপর আবার লড়াই শুরু হয়।
সূত্র: আল জাজিরা




