বিকল্প পথে ইউরোপে সৌদি-তুরস্ক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতকে ঘিরে সেখানে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। হরমুজ প্রণালি অবরোধের প্রভাব পড়েছে এবং পড়ছে পুরো বিশ্বে। এরই মধ্যে চলমান অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদার করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই গত ৯ জুন হরমুজ প্রণালির জলপথের বিকল্প হিসেবে একটি রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব ও তুরস্ক।
চলতি মাসের ৯ তারিখ সৌদি আরবের রিয়াদে হরমুজের বাইপাস হিসেবে প্রস্তাবিত রেলপথ প্রকল্পের একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষর করেন তুরস্কের পরিবহন ও অবকাঠামো মন্ত্রী আবদুলকাদের উরালোগ্লু এবং সৌদি আরবের পরিবহনমন্ত্রী সালেহ বিন নাসের আল-জাসের।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন থেকে চার বছরের মধ্যেই এমন একটি রেলপথ নির্মাণ করা হবে, যা দুই দেশকে জর্ডান ও সিরিয়ার সঙ্গে যুক্ত করবে। তুরস্কের মন্ত্রী উরালোগ্লু জানিয়েছেন, রেলপথ নির্মাণের এই প্রকল্পে পর্যায়ক্রমে অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোও যুক্ত হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক পর্যায়ে এ রেলপথের সঙ্গে যুক্ত হবে সৌদি আরব, তুরস্ক, জর্ডান, সিরিয়া ও ইউরোপ। এর মাধ্যমে পণ্য, জ্বালানি, প্রাকৃতিক গ্যাসসহ যাত্রী পরিবহনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। পর্যায়ক্রমে এই রেললাইনের আওতায় আসবে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও ইয়েমেন।
বাণিজ্যিক ব্যবহারের পাশাপাশি হজযাত্রায়ও এ রেললাইন প্রকল্প স্বস্তি আনবে বলে আলজাজিরাকে জানিয়েছেন উরালোগ্লু। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য রেল অবকাঠামো নির্মাণে একটি আর্থিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। এ বিনিয়োগের মধ্যে তুরস্ক ও সিরিয়ার আলেপ্পোর মধ্যবর্তী রেলপথ পুনর্নির্মাণে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ হাজার ২২৭ কোটি টাকা) অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের সঙ্গে একটি সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে।




