বিমানবন্দরে অভিষেককে ঘিরে উত্তেজনা, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপি কর্মীরা

ছবি: আগামীর সময়
কলকাতা বিমানবন্দরে শুক্রবার রাতে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতা ফেরাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।
তৃণমূলের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরবেন- এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই বিজেপির কর্মীরা বিমানবন্দর চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন। তাদের বিরুদ্ধে ডিম নিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনার অভিযোগও তোলা হয়েছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
শুক্রবার দিল্লিতে লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। বৈঠক শেষে তিনি কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন।
অভিষেককে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের বহু কর্মী-সমর্থক। অন্যদিকে বিজেপির কর্মীরাও সেখানে জড়ো হন। অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির রূপ নেয়। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তেই পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়।
তৃণমূলের কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, বিজেপির কিছু কর্মী পরিকল্পিতভাবে বিক্ষোভ দেখাতে এসেছিলেন এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের কাছে সন্দেহজনক বস্তু ছিল। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল অকারণে রাজনৈতিক নাটক তৈরি করার চেষ্টা করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।
সংঘর্ষের জেরে বিমানবন্দর এলাকায় সাময়িকভাবে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত যাত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের একাংশ পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যদিও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিরাপত্তার মধ্যেই বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। তাঁর বেরিয়ে যাওয়ার পরও কিছু সময় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, বিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে উসকানিমূলক কর্মসূচির পথ বেছে নিচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, রাজ্যের শাসকদল নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই এমন অভিযোগ তুলছে।
দমদমের বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী বলেন, যা ঘটেছে তা দুর্ভাগ্যজনক। তবে চোর ভাইপো আসবে জন্য বিভিন্ন এলাকার ক্রিমিনালদের আগে থেকেই নিয়ে আসা হয়। তারা কেন এসেছে?




