১১ পড়ুয়ার মৃত্যু নিয়ে মোদিকে চিঠি
শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ চাইলেন ককরোচ নেতা অভিজিৎ

ছবি: আগামীর সময়
ভারতের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঘিরে যে বিতর্ক চলছে সেই আবহেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের দাবি আরও জোরালো করলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
এ বিষয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি পাঠিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে বারবার অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে, যার ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর।
সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, প্রশ্নফাঁস রোধ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহির দাবিতে আন্দোলন করে আসছে ককরোচ জনতা পার্টি। বিশেষ করে নিট পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্ক সামনে আসার পর থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে সংগঠনটি। দিল্লির যন্তরমন্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও কেন্দ্রের তরফে কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলেই দাবি অভিজিৎয়ের।
প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অভিজিৎ বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঘিরে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাঁর বক্তব্য, সম্প্রতি প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়মের জেরে ১১ জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। এমনকি শেষ দু’দিনেই পাঁচজন পড়ুয়ার প্রাণহানির কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। চিঠিতে তিনি আরও দাবি করেন, পরীক্ষার অনিশ্চয়তা এবং পুনরায় পরীক্ষার সম্ভাবনা বহু ছাত্রছাত্রীকে মানসিক চাপে ফেলছে। বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেওয়ার পরও যদি পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তার প্রভাব পড়ুয়া এবং তাদের পরিবারের উপর মারাত্মকভাবে পড়ে। অভিজিৎয়ের মতে, সন্তানদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে বহু পরিবার তাদের সঞ্চয়, সময় ও পরিশ্রম বিনিয়োগ করে। কিন্তু প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফলে যদি কোনও পরিবার সন্তান হারায়, তাহলে সরকারেরও দায় রয়েছে। সেই কারণেই মৃত পড়ুয়াদের পরিবারকে অন্তত এক কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতার বক্তব্য, কোনও ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিলে তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আসা উচিত। তাঁর দাবি, শিক্ষাক্ষেত্রে আস্থা ফেরাতে হলে প্রথমে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হবে। সেই কারণেই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রীকে পদ থেকে সরিয়ে নতুন বার্তা দেওয়ার জন্য।
শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়ম ও পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলগুলিও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছে। যদিও কেন্দ্রের দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষাবিদ অনিমেষ চক্রবর্তী বলেন, প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা শুধু ফলাফলকে প্রভাবিত করে না, তা পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাসেও আঘাত হানে। তাই স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এক অভিভাবকের কথায়, সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য পরিবারগুলো অনেক ত্যাগ স্বীকার করে। তাই পরীক্ষাকে ঘিরে কোনও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এলে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টির পরবর্তী বড় বিক্ষোভ ২০ জুন, দিল্লির যন্তরমন্তরে হবে। অভিজিৎ দীপকে সমর্থক, ছাত্রছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থীদের সেখানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষার অনিয়ম এবং নিয়োগে বিলম্বের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।




