আগামীর চোখ
৩০ বছর পরও কমে জন্মসাল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
জনপ্রশাসন সচিব
বহু আগে এক মুরব্বি বলেছিলেন সারা িবশ্বের মানুষের জন্মসাল একটি হলেও আমাদের দেশের মানুষের জন্মসাল দুটি। প্রথমটি থাকে পরিবারের কাছে। আর দ্বিতীয়টি জন্মসনদ ও সার্টিফিকেটে। প্রথমটি আসল। দ্বিতীয়টি সরকারি চাকরির আগাম প্রস্তুতি। পড়াশোনার রেসে নামার আগে নিরাপদ রুটিরুজির ভাবনা অভিভাবকদের তাড়িয়ে বেড়ায়। তাদের কাছে সরকারি চাকরি পরম আরাধ্য। কিন্তু সরকারি চাকরিতে ঢোকার বয়স তো িলমিটেড! তাই প্রাইমারিতে বয়স কমিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়। এটিই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মকর্তা শাহনাজ বেগমের ক্ষেত্রে ঘটল উল্টো। ৩০ বছর পর বদলে গেল তার জন্মসাল। বদলে গেল নাকি বদলে ফেললেন, তা বলা মুশকিল। সরকারি চাকরি মানেই যে গোপনীয়তা! নথিতে এত বছর তার জন্ম তারিখ ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮। চাকরিজীবনের শেষপ্রান্তে এসে সেটি হয়ে গেছে ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯।
৩০ বছর পর বদলে গেল তার জন্মসাল। বদলে গেল নাকি বদলে ফেললেন, তা বলা মুশকিল
তার বোধ হয় টাইম ট্রাভেলের ভীষণ শখ। তাই ছোটখাটো একটি গবেষণা করে নিলেন বা করিয়ে নিলেন। আমার বন্ধুদের কয়েকজন বললেন, ওনার নথিপত্রে সম্ভবত ‘অ্যান্টি-অ্যাজিং’ থেরাপির প্রয়োগ ঘটানো হয়েছে। শরীরে এ থেরাপির প্রয়োগ করা যায় বলে জানতাম। কিন্তু নথির ক্ষেত্রেও যে করা যায়, তা জানতাম না। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করে কোনো সদুত্তর পেলাম না। সদুত্তর তো বিমান বাংলাদেশের কাছেও নেই। তাদের আর দোষ দিই কী! ধোপে টিকুক বা না টিকুক– অন্তত একটি তত্ত্ব তো হাজির করল! কিন্তু কাজের কাজিরা নিরুত্তর রইলেন।
শাহনাজ বেগমের হঠাৎ বয়স কমে যাওয়ার ঘটনা গোপনই ছিল। সম্ভবত সিনিয়র-জুনিয়র ইস্যুতে লজ্জা পাচ্ছিলেন। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকার পরও পদোন্নতি পাওয়ার অভিযোগে এক দিনের ব্যবধানে তা বাতিল হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। এয়ারলাইনসেরই কেউ বোধ হয় বিড়ালটিকে (বয়স কমানোর নথি) বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে। অভ্যন্তরীণ দ্বৈরথে কেউ বোধ হয় যাত্রায় ভঙ্গ দিয়েছেন। তাতে অবশ্য আমার মতো চাকরিপ্রার্থীদের লাভ হলো। উনি যদি সময়মতো অবসরে যান, তাহলে আমার মতো কোনো এক বেকার তরুণের ভাগ্যে চাকরি জুটে যাবে। মাত্র এক মাসের জন্য অনেকে চাকরির আবেদন করতে পারেন না। সে জায়গায় তো ওনার এক বছর মেয়াদ বেড়ে গিয়েছিল!
যাহোক সচিব ভাই— এরকম ‘অ্যান্টি-অ্যাজিং’ থেরাপির ভূত যাতে কোনো কর্মকর্তাকে ধরতে না পারে,
সেদিকে একটু দৃষ্টি দেবেন।
ইতি
এক বেকার তরুণ




