মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলা

ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ‘নাসর ২’ নামক প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
মঙ্গলবার সকালে এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, হামলায় ঘাঁটির জ্বালানি ডিপোগুলোতে আগুন লেগে যায় এবং একটি প্যাট্রিয়ট রাডার, সেইসাথে নৌবহরের এয়ার কন্ট্রোল রাডার, একটি সি-র্যাম আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম এবং মনুষ্যবিহীন সারফেস ভেসেল (ইউএসভি)-এর নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়ে যায়।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, তারা বাহরাইনের আল-জুফায়ের ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি অস্ত্রাগার, একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র এবং মার্কিন বাহিনীর একটি ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে, প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাহরাইনের রাজার গণমাধ্যম উপদেষ্টা নাবিল আলহামার বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘণ্টায় দেশটির আকাশে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের বিমান হামলা প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।
তিনি সামাজিকমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টের মাধ্যমে এই ঘোষণাটি দেন।
আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘নাসর ২’ খ্যাত অভিযানটি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, উত্তর ইরাকের এরবিলের পূর্বে একটি ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঐতিহাসিকভাবে ইরাকের কুর্দি বাহিনীর সঙ্গে ইরানের বর্তমান শাসকদলের সাংঘর্ষিক সম্পর্ক রয়েছে।
জর্ডানের সরকারি সংবাদ সংস্থা পেট্রার তথ্যমতে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী দেশটির আকাশসীমায় ইরান থেকে ছোড়া চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
এর আগে, সেন্টকম ইরানের ওপর সর্বশেষ দফার হামলা শেষ হয়েছে বলে বিবৃতি জারি করে।
এতে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর সর্বশেষ দফার হামলা পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে এবং মার্কিন বাহিনী বুশেহর, শাহ বাহার, জাস্ক, কোনারাক, আবু মুসা এবং বন্দর আব্বাসসহ ইরানজুড়ে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা চালানোর জন্য ইরানের ক্ষমতা আরও কমানোর লক্ষ্যে দেশটির উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অস্ত্র ব্যবহার করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ৫০ হাজারেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন রয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা





