‘আমেরিকার পাশে দাঁড়ালে যুদ্ধের আগুনে পুড়তে হবে’, হুঁশিয়ারি ইরানের
- নেতানিয়াহু ‘মিথ্যার স্বপ্ন’ বিক্রি করছেন, দাবি তেহরানের; পাল্টা আঘাতে ‘পাথর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ ফের চড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই ওয়াশিংটনের পাশে থাকা দেশগুলোকে সরাসরি সতর্ক করল তেহরান। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে দেওয়া এক বক্তব্যে দেশটির সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা ও খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল সদর দফতরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেছেন, যে কোনও দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, তাকে যুদ্ধের আগুনের ফল ভোগ করতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, "ইরানের কোনও নাগরিক নিহত হলে তার জবাব দেওয়া হবে একজন মার্কিন সেনার মৃত্যুর মাধ্যমে।" একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ইরান তাদের জন্য "সরাসরি একমুখী পথ" প্রস্তুত রেখেছে।
ইরানের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবার বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন দূতাবাসগুলো নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার খবরও সামনে এসেছে।
আবদোল্লাহি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও জোট বা সামরিক পদক্ষেপে অংশ নেওয়া দেশগুলোকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল–ইরানের বিরুদ্ধে কোনও বিদেশি শক্তিকে সহযোগিতা করলে সেই দেশও সংঘাতের অংশ হয়ে যাবে।
নেতানিয়াহুকে নিশানা: “মিথ্যার স্বপ্ন বিক্রি করছেন”
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তীব্র আক্রমণ করেছে ইরান। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নেতানিয়াহু ইরান নিয়ে এমন একটি ছবি তুলে ধরছেন যা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
ইরানের বক্তব্য, ইসরায়েলি নেতৃত্ব জনগণের সামনে “মিথ্যার স্বপ্ন” তুলে ধরছে এবং সামরিক শক্তির প্রদর্শনের মাধ্যমে রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহু বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ও সামরিক কর্মসূচি ইসরায়েল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তাঁর বক্তব্য, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না।
“পাথর যুগে ফিরিয়ে দেব”: ইরানের পাল্টা হুমকি
ইসরায়েলি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্দেশে আরও কঠোর ভাষায় প্রতিশোধের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তেহরানের বার্তা–যদি তাদের ওপর বড় ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ।
ইরানের কর্মকর্তারা আগেও সতর্ক করে বলেছেন, তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি, মিত্র দেশ এবং আঞ্চলিক স্বার্থ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এর ফলে শুধু দুই দেশের মধ্যে নয়, পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ওয়াশিংটন–তেহরান সংঘাতে নতুন উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কয়েক দফায় বেড়েছে। মার্কিন নেতৃত্ব ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে তেহরান বলছে, তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।
ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দূতাবাস নাগরিকদের পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে অঞ্চল ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথও এর প্রভাবে অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বের সামনে নতুন প্রশ্ন
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সংঘাত এখন নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগ, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা প্রতিরোধের ঘোষণা–দুই পক্ষের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
কূটনীতিকদের আশঙ্কা, সামান্য ভুল হিসাবও বড় আকারের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। কারণ এই সংঘাত শুধু তেহরান ও ওয়াশিংটনের নয়–এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ।






