মধ্যপ্রাচ্যে ধ্বংস স্থাপনা মেরামতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিতে চাপ

গত ৯ মার্চ বাহরাইনের সিত্রা দ্বীপে বাপকো তেল শোধনাগারে হামলা চালায় ইরান। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণে মার্কিন কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তার দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এজন্য যুক্তরাষ্ট্র কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সম্ভাব্য গ্রাহক হিসেবে চিহ্নিত করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ও আরবের কর্মকর্তারা।
যেসব দেশে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি তাদের কাছে মার্কিন প্রকৌশল, উৎপাদন ও নির্মাণ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে রাখতে চাচ্ছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে ইরানের হামলায় তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সৌদি আরব ও ওমান।
উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের আমেরিকা ফার্স্ট পররাষ্ট্রনীতির অংশ। যেখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে।
তবে এক আরব কর্মকর্তা এই উদ্যোগকে কিছুটা সংবেদনহীন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, এখনো নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় সতর্ক রয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। আঞ্চলিক নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়েও সংশয় রয়েছে তাদের।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রস্তাব কেবল প্রতীকী নয়। রিস্ট্যাড এনার্জির অনুমান অনুযায়ী, শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি–সংযুক্ত অবকাঠামো মেরামতের খরচ হতে পারে ৩৯ বিলিয়ন ডলার। যেখানে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি গণনায় নেই।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবরোধ জটিল করে তুলেছে পরিস্থিতিকে।
ইরান সরকার জানিয়েছে, যুদ্ধে তাদের অর্থনীতির সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে সরাসরি সমর্থন দেয়নি উপসাগরীয় দেশগুলো। কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলার বড় ধাক্কা সামলাতে হয়েছে তাদেরই। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করেই ছোড়া হয়েছে কমপক্ষে ২ হাজার ব্যালেস্টিক মিসাইল ও ড্রোন।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির কারণে। বিপরীতে সৌদি আরবের কাছে লোহিত সাগর দিয়ে বিকল্প পাইপলাইন থাকায় তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
পুনর্গঠনের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা থাকলেও আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মন্দার। কুয়েতের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল বিশ্বের অন্যতম বড়। ১ ট্রিলিয়ন ডলারের এই তহবিল ইউএই ও সৌদি আরবের তহবিলের সমকক্ষ। যদিও এটি বেশ গোপনে পরিচালিত হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময় চুক্তি চাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ। যাতে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাহত হলে ডলারের প্রবাহ বজায় রাখতে পারে তারা।
এক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই সুয়াপ লাইনের বিনিময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শর্ত আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন ও আরব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির পক্ষে সরাসরি লবিং করা হয়নি। তবে পুনর্গঠনের প্রথম সারিতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাখতেই কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই

