পাকিস্তান উপকূলে জাহাজে মার্কিন হামলা, হরমুজ ‘পুরো নিয়ন্ত্রণের’ দাবি

কার্গো জাহাজ ‘ভেলা নোভায়’ দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে সেন্টকম- রয়টার্স
যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা স্তিমিত হয়েছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত। কিন্তু হরমুজ প্রণালির জলপথে আবারও ছুটল মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের বন্দরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানে উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনীর দাবি, জাহাজটি ইরানের ওপর আরোপ করা নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। আর ঠিক এমন সময়েই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ‘পুরো নিয়ন্ত্রণ’ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। হরমুজ ঘিরে নতুন এই উত্তেজনার প্রভাব এরই মধ্যে পড়েছে তেলের বাজারে। বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তানের উপকূলে ওমান উপসাগরে প্রবেশের সময় পানামার পতাকাবাহী কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘ভেলা নোভা’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে ।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মঙ্গলবার জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী ‘ভেলা নোভা’ নামের একটি কার্গো জাহাজে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার থেকে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি ওমান উপসাগর দিয়ে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন বাহিনীর দেওয়া একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল জাহাজটির ক্রুরা। এরপর জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় এবং এর স্টিয়ারিং ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া হয়।
হামলায় কোনো ক্রু আহত হয়েছেন কি না, তা জানায়নি সেন্টকম।
মার্কিন বাহিনী আরও জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ শুরুর পর এ পর্যন্ত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘অসহযোগী’ তিনটি জাহাজও রয়েছে। এ ছাড়া দুটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়ে সেগুলোতে ওঠা হয়েছে।
‘হরমুজ পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে’
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান পরিস্থিতি ‘খুব ভালোভাবেই চলছে’ এবং হরমুজ প্রণালির পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।
জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের তিনি বললেন, ‘ইরান খুব ভালোভাবেই চলছে, একেবারে ভালো। আমরা হরমুজ প্রণালির পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছি। এর নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে, অন্য কারও নয়। আমাদের নৌবাহিনী অবিশ্বাস্য এবং আমাদের দেশের জন্য সবকিছু দারুণ চলছে।’
ইরানের ওপর আস্থাহীনতার কথাও স্পষ্ট করে ট্রাম্প বললেন, ‘আমি ইরানকে বিশ্বাস করি না। ইরানকে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে আমিই শেষ ব্যক্তি। তারা প্রতিনিয়ত আমার সঙ্গে মিথ্যা বলেছে।’
তিনি আবারও দাবি করেন, ‘এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির পুরো নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে। তাদের হাতে নয়।’
চড়ছে তেলের দাম
হরমুজ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও।
বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ০০:৫৩-এ ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৭২ সেন্ট বা ০.৮১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯.৬৩ ডলারে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ৭১ সেন্ট বা ০.৮৫ শতাংশ বেড়ে ৮৩.৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুই বেঞ্চমার্ক তেলের দামই ১ ডলারের বেশি বেড়ে লেনদেন শেষ করে। রয়টার্সের হিসাবে, ৩১ জুলাইয়ের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ সমাপনী দর।
তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছিল সোমবারও। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা ক্রমেই ফিকে হয়ে আসার পর বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বাড়ার তথ্য এলেও সেই উদ্বেগ কাটেনি।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স




