ইসরায়েলে ভোট
নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণই শুধু নয়, রয়েছে ভিন্ন গুরুত্বও

ইসরায়েলের কিরিয়াত মালাখির বাইরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের ছবিসংবলিত নির্বাচনী বিলবোর্ড। ছবি: রয়টার্স
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কি ক্ষমতায় থাকবেন, ইসরায়েলে নির্বাচন মানেই গত কয়েক দশক ধরে এ প্রশ্নটিই ঘুরেফিরে সামনে আসে। এবারের নির্বাচনেও (মঙ্গলবারের) সেই প্রশ্ন আছে। তবে এবার বিষয়টি শুধু নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা বা না থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এ নির্বাচনে অনেকটাই ঠিক হবে আগামী কয়েক বছরে ইসরায়েল কোন পথে যাবে।
দেশটির রাজনীতি আরও ডানপন্থী ও ধর্মীয় ধারায় এগোবে, নাকি কিছুটা মধ্যপন্থার দিকে ফিরবে— সেই প্রশ্নও সামনে রয়েছে।
এর সঙ্গে আছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার ব্যর্থতার দায়। গাজা, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধের পর দেশের নিরাপত্তা নীতি কী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সেনাবাহিনীতে কারা কতটা দায়িত্ব পালন করবেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি নীতি কী হবে এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে— এসব প্রশ্নও ভোটে প্রভাব ফেলছে।
এ কারণেই এবারের নির্বাচনকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েলি নির্বাচনগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কারা লড়ছেন, এগিয়ে কে
ইসরায়েলে ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না। তারা বিভিন্ন দলের প্রার্থী তালিকায় ভোট দেন।
১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে যেতে একটি দলকে অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। এবার ৩৭টি তালিকা নির্বাচনে নিবন্ধিত হয়েছে। তবে জরিপ বলছে, এর মধ্যে প্রায় ১১ থেকে ১৩টি দল নেসেটে জায়গা পেতে পারে।
প্রধান লড়াই নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নতুন মধ্যপন্থী দল ইয়াশারের মধ্যে।
সর্বশেষ চ্যানেল ১২ জরিপে ইয়াশারকে ২৩ এবং লিকুদকে ২১টি আসন দেওয়া হয়েছে। তবে সব জরিপ একই চিত্র দেখাচ্ছে না। নেতানিয়াহুপন্থী চ্যানেল ১৪-এর জরিপে লিকুদ অনেক বেশি আসন পাচ্ছে।
তবে একটি বিষয়ে অধিকাংশ জরিপের মিল রয়েছে। কোনো পক্ষই সহজে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাচ্ছে না। সর্বশেষ কয়েকটি বড় জরিপেও নেতানিয়াহু ও তার মিত্রদের ৪৯ থেকে ৫৫টির মতো আসনের মধ্যে দেখা যাচ্ছে।
এখানেই ইসরায়েলের নির্বাচনের জটিলতা।
সবচেয়ে বেশি আসন পেলেই সরকার গঠন নিশ্চিত হয় না। সরকার করতে ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। ইসরায়েলের কোনো দলই একা সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে ভোটের পর শুরু হয় জোট গঠনের লড়াই।
নেতানিয়াহুর পাশে রয়েছে বেজালেল স্মোত্রিচ ও ইতামার বেন-গভিরের কট্টর ডানপন্থী দল এবং দুটি অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দল।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও ঐক্যবদ্ধ নয়। আইজেনকটের পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান এবং বামপন্থী নেতা ইয়ার গোলানের দল রয়েছে সেখানে। তাদের মধ্যে আবার কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা নিয়েও মতপার্থক্য আছে।
ফলে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অচলাবস্থা, সংখ্যালঘু সরকার, ঐক্যের সরকার কিংবা আবার নির্বাচন— সব সম্ভাবনাই খোলা রয়েছে।
কোন বিষয় ফল পাল্টে দিতে পারে
বড় দলগুলোর চেয়েও এবার কয়েকটি ছোট দল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
৩ দশমিক ২৫ শতাংশের সীমা পার করতে না পারলে একটি দলের সব ভোট কার্যত আসন বণ্টনের বাইরে চলে যাবে। আবার অল্প কিছু ভোট বেশি পেলেই সেই দল নেসেটে ঢুকে সরকার গঠনের হিসাব পাল্টে দিতে পারে।
নেতানিয়াহুর মিত্র স্মোতরিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজমসহ কয়েকটি ছোট ডানপন্থী দলের অবস্থান তাই গুরুত্বপূর্ণ।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি আরব নাগরিকরা। তারা দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ।
২০২২ সালের নির্বাচনে আরব ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ। সামগ্রিক ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ। এবার আরব ভোট ৬০ শতাংশ ছাড়াতে পারে বলে বিভিন্ন জরিপে ধারণা করা হচ্ছে।
আরব ভোটারদের উপস্থিতি বাড়লে ছোট দলগুলোর জন্য নির্বাচনী সীমা পার করাও কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে সরকার গঠনের হিসাবেও আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সমস্যা হলো, বিরোধী শিবিরের কয়েকজন নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। ফলে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো ভালো ফল করলেও ৬১ আসনে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
বিদেশে থাকা ইসরায়েলিরাও এবার আলোচনায় রয়েছেন। প্রায় ৭৩ লাখ ভোটারের মধ্যে আনুমানিক ৮ লাখ ১০ হাজার দেশের বাইরে থাকেন। কূটনৈতিক কর্মী ছাড়া বিদেশ থেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই ভোট দিতে তাদের ইসরায়েলে ফিরতে হবে।
ইসরায়েলিরা কোন বিষয় দেখে ভোট দেবেন
যুদ্ধের মধ্যে থাকা একটি দেশের নির্বাচনে নিরাপত্তাই প্রধান বিষয় হবে— এমন ধারণা স্বাভাবিক। কিন্তু জরিপ অন্য একটি বড় সমস্যাও সামনে এনেছে— সেটি হলো জীবনযাত্রার ব্যয়।
চ্যানেল ১২-এর সাম্প্রতিক জরিপে ২১ শতাংশ ভোটার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলেছেন। অতি-রক্ষণশীল ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন ১৭ শতাংশ। ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতাকে ১৪ শতাংশ এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে ১০ শতাংশ ভোটার প্রধান বিষয় বলেছেন।
তবে রাজনৈতিক অবস্থান অনুযায়ী অগ্রাধিকার বদলে যাচ্ছে।
নেতানিয়াহুর জোটের ভোটারদের মধ্যে ২১ শতাংশের কাছে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী ভোটারদের মধ্যে ২৮ শতাংশের প্রধান বিষয় ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা।
তরুণদের ক্ষেত্রে আবার অর্থনীতি আরও বড় বিষয়। একটি জরিপে ২২ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ৫৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাড়ির দাম তাদের ভোটে প্রভাব ফেলবে। নিরাপত্তার কথা বলেছেন ৩৬ শতাংশ।
নির্বাচনের শেষ দিকে অর্থনীতিকে সামনে এনেছেন নেতানিয়াহুও। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ এবং সম্ভাব্য আর্থিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইনের মতো ব্যবস্থা বিবেচনার কথা বলেছেন।
তার এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন অর্থনীতিবিদরা। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বলেছে, নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর উপায় হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
আইজেনকট বিষয়টিকে ব্যঙ্গ করে ‘বিবিকয়েন’ বলেছেন। তার অভিযোগ, নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা ইসরায়েলের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।
৭ অক্টোবর ও গাজা যুদ্ধ কতটা প্রভাব ফেলবে
নেতানিয়াহু দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নিজেকে নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন।
কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার সময় তিনিই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ওই হামলায় ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ইসরায়েলের ইতিহাসে ঘটনাটিকে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়।
নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে এর দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কীভাবে এমন ব্যর্থতা ঘটল, তা তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিরোধীরা নির্বাচনী প্রচারে এটিকেই বড় ইস্যু করেছে।
আইজেনকটের নিজের জীবনেও গাজা যুদ্ধের বড় প্রভাব রয়েছে। তার ২৫ বছর বয়সী ছেলে গাল ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজায় যুদ্ধে নিহত হন।
বিভিন্ন বিরোধী দল এবার নিহতদের পরিবারের সদস্য, সাবেক জিম্মিদের স্বজন এবং গাজা ও লেবাননে যুদ্ধ করা রিজার্ভ সেনাদের প্রার্থী করেছে।
এর সঙ্গে সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রশ্নও রয়েছে।
বেশির ভাগ ইহুদি ইসরায়েলিকে ১৮ বছর বয়সের পর সেনাবাহিনীতে কাজ করতে হয়। কিন্তু অতি-রক্ষণশীল ইহুদি পুরুষরা ধর্মীয় শিক্ষার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপকভাবে ছাড় পেয়ে আসছেন।
অন্যদিকে বহু ফ্রন্টে যুদ্ধের কারণে সেনাবাহিনীতে জনবলের চাপ বেড়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হিসাবে, তাদের ১২ হাজারের বেশি সদস্যের ঘাটতি রয়েছে। ফলে রিজার্ভ সেনাদের অনেককে বারবার ডেকে কয়েকশ দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।
নেতানিয়াহুর অতি-রক্ষণশীল মিত্ররা তাদের সম্প্রদায়ের ছাড় ধরে রাখতে চায়। বিরোধী দলগুলো সবার জন্য সামরিক বা জাতীয় সেবার দাবি তুলেছে।
ফিলিস্তিনিদের জন্য এ নির্বাচনের অর্থ কী
নেতানিয়াহুর বিদায়ী সরকারকে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর সরকারগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়।
এর পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের।
স্মোতরিচ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের পক্ষে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সংগ্রহ করা করের অর্থ আটকে রাখার নীতিতেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন।
বেন-গভির ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য কঠোর ব্যবস্থা এবং মৃত্যুদণ্ডের আইনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধেও পুলিশ যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুজনই গাজা যুদ্ধ বন্ধের বিরোধিতা করেছেন। গাজায় আবার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষেও তারা কথা বলেছেন।
নেতানিয়াহু একই মিত্রদের নিয়ে আবার সরকার গঠন করলে এসব নীতি আরও জোরালো হতে পারে।
স্মোতরিচ অসলো চুক্তি বাতিল এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ভেঙে দেওয়ার পক্ষে। বেন-গভির গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র চলে যাওয়াকে উৎসাহিত করার কথা বলেছেন।
তবে বিরোধীরা ক্ষমতায় এলেই ফিলিস্তিন প্রশ্নে আমূল পরিবর্তন হবে, এমন নয়।
আইজেনকটও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন। তার নেতৃত্বে সম্ভাব্য সরকারেও এমন কয়েকটি ডানপন্থী দল থাকার কথা, যারা ফিলিস্তিনিদের বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার বিরোধী।
তবে বেন-গভির ও স্মোতরিচের ওপর নির্ভরশীল নয়— এমন সরকার পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর হতে পারে। ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র চলে যাওয়ার আহ্বান কিংবা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ভেঙে দেওয়ার প্রকাশ্য নীতিও বাদ পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও আরব দেশগুলোর উদ্যোগের প্রতিও এমন সরকার তুলনামূলক বেশি ইতিবাচক হতে পারে।
তারপরও হামাসকে নিরস্ত্র করা, গাজার পুনর্গঠন এবং পশ্চিম তীরে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার মতো বড় প্রশ্ন থেকেই যাবে।
বিশ্বের জন্য এ নির্বাচনের অর্থ কী
গাজা ও লেবাননের যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থান দুর্বল হয়েছে।
গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এ কারণে ইউরোপের অনেক দেশে তার সফর নিয়েও আইনি ঝুঁকি রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসরায়েল ও নেতানিয়াহুর প্রতি মনোভাব আগের মতো নেই।
২০২৬ সালের মার্চে পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মত দিয়েছেন। ৫৯ শতাংশ বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর ওপর তাদের আস্থা খুব কম বা একেবারেই নেই।
পশ্চিম ইউরোপেও পরিবর্তন আরও স্পষ্ট। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। পশ্চিম তীরের বসতি এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞাও এসেছে। বেন-গভির ও স্মোতরিচও একাধিক পশ্চিমা দেশের নিষেধাজ্ঞা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন।
নেতানিয়াহু বর্তমান মিত্রদের নিয়ে আবার ক্ষমতায় এলে এই আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে আইজেনকট বা বিরোধী শিবিরের কেউ সরকার গঠন করলে শুরুতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিম তীরে সহিংসতা ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নিলে কিছু সম্পর্ক মেরামতের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে সরকার বদলালেই ইসরায়েলের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি পুরোপুরি বদলে যাবে— এমন সম্ভাবনা কম।
কারণ নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরাও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র, গাজা ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক কয়েকটি প্রশ্নে খুব বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেননি।
তাই মঙ্গলবারের ভোট শুধু নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন নয়। ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতার পর ইসরায়েল কোন নেতৃত্বকে বিশ্বাস করছে, যুদ্ধের বোঝা কীভাবে ভাগ হবে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি নীতি কতটা কঠোর থাকবে এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দেশটি কোন পথে যাবে— তারও বড় পরীক্ষা এ নির্বাচন।
আর ভোটের ফলেই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে না। জরিপ ঠিক হলে আসল লড়াই শুরু হতে পারে ভোটের পর— ৬১ আসনের জোট গঠনের টেবিলে।
সূত্র: সিএনএন



