সৌদির আভা বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি আরবের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ছবি : রয়টার্স
সৌদি আরবের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। গোষ্ঠীটির দাবি, রাজধানী সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের হামলার প্রতিশোধ নিতেই সোমবার এই অভিযান চালানো হয়েছে।
হুতি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বিবৃতিতে গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারেয়া জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের আভা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তার দাবি, অভিযানটি সফলভাবে তার লক্ষ্য অর্জন করেছে।
তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
বিবৃতিতে হুতি মুখপাত্র সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর থেকে ফ্লাইটের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে দেন। তিনি আরও বলেছেন, এই উত্তেজনার যেকোনো পরিণতির জন্য সৌদি আরব দায়ী থাকবে এবং সানা বিমানবন্দরের ওপর আরোপিত ‘অবরোধ’ বন্ধ করতে হুতি বাহিনী আরও পদক্ষেপ নেবে।
এর আগে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে ক্ষমতায় পুনরায় বসানোর জন্য গঠিত সৌদি জোট বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, রিয়াদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশটির দক্ষিণ অঞ্চলে হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করেছে।
২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর থেকে হুতিরা সেখানে এবং দেশের বড় একটি অংশে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে পুনর্বহালের জন্য সৌদি নেতৃত্বাধীন ‘কোয়ালিশন টু রিস্টোর লেজিটিমেসি ইন ইয়েমেন’ দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করছে।
সোমবার ভোরে তেহরান থেকে সানা অভিমুখী একটি ইরানি যাত্রীবাহী বিমানকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। বিমানটিতে হুতিদের একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল ছিল।
সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকার ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে হুথিদের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে। তাদের দাবি, এসব ফ্লাইট সামরিক কর্মকর্তা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের পরিবহনে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে হুতিরা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানি বিমানটি সানার কাছাকাছি পৌঁছালে হুতি নিয়ন্ত্রিত বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে বিমানটি অবতরণ করতে না পেরে লোহিত সাগর উপকূলের হোদেইদাহ বিমানবন্দরে গিয়ে নামে।
হুতিদের দাবি, সৌদি যুদ্ধবিমান এই হামলা চালিয়েছে। হুতিরা রাজধানী সানার দখল পর ইয়েমেনে সংকটের সূত্রপাত হয় এবং পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সেখানে হস্তক্ষেপ করে।
সূত্র : চায়না ডেইলি ও আলজাজিরা




