ব্রিটিশ আমলের মানচিত্র দেখে হিমালয়ের নতুন সীমানা

সংগৃহীত ছবি
সীমান্ত বিরোধ নিয়ে সমঝোতার আশায় এবার যুক্তরাজ্যের দরজায় হাজির হয়েছে নেপাল। তবে দেশটিকে ব্রিটিশ শাসনামলের মানচিত্র দেখে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে লন্ডন। এমনটাই উঠে এসেছে দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে।
ভারত ও চীনের সঙ্গে হিমালয়ার সীমান্ত নিয়ে বিরোধ প্রায় ৬৪ বছরের। এর আগে ব্রিটিশ শাসনামল থেকে এই সীমান্ত নিয়ে প্রায় ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে দেশগুলোর মধ্যে চলছে অমীমাংসিত লড়াই। গত রবিবার নেপালের প্রাধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নতুন করে এই বিরোধে আগুন ঢেলেছেন। পার্লামেন্টে তিনি মন্তব্য করেছেন নেপাল ভারতের কাছে থেকে জোরপূর্বক হিমালয়ের সীমান্ত দখল করেছে। তার এই বক্তব্য নেপালের আগের সব সীমান্ত যুক্তির বিরুদ্ধে। কারণ, নেপাল সবসময় বলে এসেছে ভারত তাদের জমি দখল করে রেখেছে। ‘আমরা শুধুমাত্র ভারত আর চীনের সঙ্গেই আলাপ করিনি, যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও করেছি। আমাদের বিশ্বাস, যুক্তরাজ্যের এ বিষয়ে আগ্রহী হওয়া উচিত। কারণ, এই বিরোধ ভারতে তাদের শাসনামলের সময়ের’, জানিয়েছেন বালেন্দ্র। তার মতে, কূটনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়েই এ বিষয়ের মীমাংসা হওয়া প্রয়োজন।
দেশগুলোর এই বিরোধ মূলত কালাপানি-লিম্পিয়াধুরা-লিপুলেখ অঞ্চল নিয়ে। ভারত, নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে একপ্রকার চেপে আছে এই জমি। এই অঞ্চল আবার রয়েছে চীন সরকারের অধীনে। নেপালের দাবি, ১৯৬২ সালের সিনো-ইন্ডিয়ান যুদ্ধের পর থেকে ভারত তাদের ১৪৪ বর্গমাইল জমি অবৈধভাবে দখল করেছে। তাদের দাবির যুক্তি হিসেবে নেপাল ১৮১৯ থেকে ১৮৭৯ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বানানো মানচিত্র তুলে এনেছে। গত মাসে এ বিষয়ে সহায়তার জন্য নেপালে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত রব ফেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দেশটির সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কুমার ব্যাঞ্জাঙ্কার। তবে নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফেনের মতে এই সীমান্ত বিরোধ ভারত ও নেপালের মধ্যকার। এতে যুক্তরাজ্য যোগ দেবে না।
২০১৯ সালে কালাপানি অঞ্চলকে ভারতের অংশ হিসেবে একটি মানচিত্র প্রকাশ করে ভারত। এতে ভারত-নেপালের এই সীমান্ত বিরোধ হয় আরও তিক্ত। জবাবে নেপাল নিজেদের মানচিত্রে কালাপানি, লিম্পিয়াধুরা ও লিপুলেখকে অন্তর্ভুক্ত করে তা প্রকাশ করে।




