১৬৭৯ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর দাবি আসাম সরকারের

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
আসামে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধের নামে গত দুই বছরে ১ হাজার ৬৭৯ জনকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে বলে দাবি করল হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সরকার। রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন। তবে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরই ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ‘পুশব্যাক’ নীতির স্বচ্ছতা, মানবাধিকার এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক বিদেশি ঘোষিত ব্যক্তি এবং সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারী মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৬৭৯ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তার দাবি, ১৯৫০ সালের ‘ইমিগ্র্যান্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) অ্যাক্ট’-এর আওতায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
আসাম সরকার দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশ ইস্যুকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, বিদেশি চিহ্নিতকরণ এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা নেই। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে মামলা এখনো বিচারাধীন, তাদের অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এআইইউডিএফ বিধায়ক বদরুদ্দিন আজমলের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, ফেরত পাঠানোর সময় মানবাধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলোর প্রতি নজর রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, যাদের মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এখনই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
একই অধিবেশনে কংগ্রেস বিধায়ক নুরুল ইসলামের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে আসামে ৯১ হাজার ৩৮৫ জন ‘ডি-ভোটার’ বা সন্দেহভাজন নাগরিক রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডি-ভোটার সোনিতপুর জেলায়, সংখ্যা ১৩ হাজার ৭১৯। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বরপেটা, যেখানে এই সংখ্যা ৮ হাজার ৮১।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ৯১ হাজার ৩৮৫ জনের মধ্যে ৫৬ হাজার ৭২৮ জনকে এরই মধ্যে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করেছে। এদের মধ্যে ৮৩১ জন উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেও আদালত ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে বলে দাবি সরকারের।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, শুধু পরিসংখ্যান তুলে ধরলেই কি সমস্যার সমাধান হয়? বহু মানবাধিকার কর্মীর মতে, নাগরিকত্বের প্রশ্নে ভুল সিদ্ধান্ত একজন মানুষের জীবন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। ফলে বিদেশি চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে প্রত্যর্পণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে আরও বেশি স্বচ্ছতা এবং স্বাধীন নজরদারি প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ভারত সরকারের ‘পুশব্যাক’ নীতির বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশও। ফলে সীমান্ত রাজনীতি, নাগরিকত্ব এবং মানবাধিকার- এই তিনটি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে আসামের এই পদক্ষেপ আগামী দিনেও বিতর্কের কেন্দ্রেই থাকবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




