ককরোচ আন্দোলনে খাবার ডেলিভারিতে বাধার অভিযোগ, সব বক্তব্য খতিয়ে দেখবে দিল্লি পুলিশ
- তারকা ও রাজনীতিকদের ভাষণও অন্তর্ভুক্ত
- প্রায় তিন হাজারের বিরুদ্ধে উস্কানি ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ
- ৫ টেরাবাইটের বেশি তথ্যের ওপর বিশ্লেষণ, ১৫ এফআইআর
- পুলিশ সদস্যদের আচরণ বিচার করা হবে
- খাবার নিয়ে আসা ডেলিভারি কর্মীদের প্রবেশে বাধা
- খাবারের অ্যাপ বন্ধের অভিযোগ, পুলিশের অস্বীকার
- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ প্রশ্নে অনড়

কয়েকজন ডেলিভারিকর্মীকে ফেরত আসতে দেখা গেছে। ছবি : রয়টার্স
১৮ জুলাই আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুককে যন্তর-মন্তর থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা অবস্থান কর্মসূচিতে দেওয়া সব বক্তব্য পর্যালোচনা করবে দিল্লি পুলিশ।
আন্দোলনকারীদের উসকে দিতে কোনো উসকানিমূলক মন্তব্য করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এই পর্যালোচনায় বিভিন্ন তারকা ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের দেওয়া বক্তব্যও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত ১৫টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে কনট প্লেসের ‘সেলফি পয়েন্ট’ এলাকায় প্রথম পাথর নিক্ষেপের ঘটনার পর পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় দায়ের করা প্রথম মামলায় ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের ধারাও যুক্ত করা হবে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘সহিংসতায় জড়িত হিসেবে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ থেকে ২০০ জনের বিরুদ্ধে জনতাকে উসকে দেওয়া, পাথর নিক্ষেপ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে।’
একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় পুলিশের কাছে ৫ টেরাবাইটের বেশি তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। আগামী কয়েক দিনে সেগুলো বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালানো হবে।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, তারা ব্লুটুথ মেশ নেটওয়ার্কে পরিচালিত বিটচ্যাট অ্যাপের এনক্রিপটেড বার্তা, এলাকা ও কলেজভিত্তিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের বার্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং মুখ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত উপাত্ত পরীক্ষা করছে।
তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, কর্মসূচির পর সৃষ্ট পদদলিত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে ২২ বছর বয়সী এক নারী আহত হওয়ার ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ প্রযোজ্য কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের দাবি, সরকারের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও সিজেপির নেতারা সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। তদন্তকারীদের মতে, এমন কর্মসূচির ফলে অতিরিক্ত ভিড় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে—এ বিষয়টি আন্দোলনকারীরা আগে থেকেই জানতেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, তদন্তে বিক্ষোভ চলাকালে কোনো পুলিশ সদস্য অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছেন কি না, সেই অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে, সিজেপি নেতাকর্মীরা শনিবার অভিযোগ করেছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আন্দোলনকারীদের জন্য অর্ডার করা খাবার নিয়ে আসা ডেলিভারি কর্মীদের যন্তর-মন্তরের বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না দিল্লি পুলিশ। তবে এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
যন্তর-মন্তর থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বিক্ষোভস্থলের ভেতরে খাবার পৌঁছে দিতে আসা মোটরসাইকেল আরোহী ডেলিভারি কর্মীদের পুলিশ বাধা দিচ্ছে। তবে আন্দোলনস্থলের বাইরে নয়াদিল্লির অন্য এলাকায় সুইগি ও জোম্যাটোর খাবার সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
বাংলা সাহিব গুরুদ্বারের কাছে অবস্থান নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকেরা বিভিন্ন রেস্তোরাঁ থেকে বিপুল পরিমাণ খাবার অর্ডার করে অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনে করে আন্দোলনস্থলে নিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের মধ্যে ম্যাকডোনাল্ডসের বার্গারও বিতরণ করা হয়েছে।
সরাসরি আন্দোলনস্থলে খাবার সরবরাহের জন্য দেওয়া অর্ডারগুলো অনেক ক্ষেত্রে রেস্তোরাঁ বা ডেলিভারি কর্মীরা বাতিল করে দিচ্ছেন বা গ্রহণ করছেন না বলেও জানা গেছে।
তবে দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, নয়াদিল্লি এলাকায় খাবার সরবরাহকারী অ্যাপগুলোর সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
সিজেপির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা শনিবার দাবি করেছেন, সরকারের সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই এখনও তাদের প্রধান দাবি।
তিনি বলেছেন, ‘যদি তিনি (ধর্মেন্দ্র প্রধান) পদত্যাগ না করেন, তাহলে সরকার সেটি স্পষ্ট করে জানাক। এ ধরনের বৈঠক চালিয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই।’
শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনার ঘোষণাকে ঘিরে পাওয়া ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও পরামর্শের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তার ভাষ্য, আগামী সপ্তাহে চলমান সংসদ অধিবেশনেই এ-সংক্রান্ত নতুন বিল উত্থাপন করা হবে।
সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস




