ককরোচ ছাত্র আন্দোলনের পর বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে উপনির্বাচনে হার

বিজয়ের মালা গলায় প্রশান্ত কিশোর। ছবি : সংগৃহীত
দেশ জুড়ে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব এবার ভোটের ফলেও পড়তে শুরু করেছে বলে দাবি করেছে বিরোধীরা। বিহারের রাজধানী পাটনার বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তিন দশক ধরে বিজেপির দখলে থাকা আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজ।
সাম্প্রতিক জেনজি ছাত্র আন্দোলনের পর এটিকে নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাঁকিপুরে জন সুরাজের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের জয় শুধু একটি আসন দখলের ঘটনা নয়। বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে এই ফলাফলকে আগামী দিনে বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সোমবার উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রশান্ত কিশোর বলেছেন, এই রায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে স্পষ্ট বার্তা। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এই ফলাফলকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, কারণ এর কয়েক সপ্তাহ আগেই দেশ জুড়ে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ককরোচ আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রের শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। বিরোধীদের দাবি, ওই আন্দোলন তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিজেপির প্রতি ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত তিনটি উপনির্বাচনের মধ্যে বিজেপি দুটিতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে। তবে বিহারের ফলাফলই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জন সুরাজের প্রচারে শিক্ষা, প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি ও বেকারত্বকে প্রধান ইস্যু করা হয়েছিল।
প্রশান্ত কিশোরের সমর্থকদের দাবি, তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ এসব ইস্যুর সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎকে যুক্ত করে দেখেছেন। ভারতের জনসংখ্যার বড় অংশই ৩৫ বছরের নিচে। বিভিন্ন শ্রমবাজার সমীক্ষাতেও দেখা যাচ্ছে, দেশটির উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ফলে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের প্রশ্ন এখন নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠছে।
উপনির্বাচনের প্রচারে বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি নীতিন নবীন আন্দোলনকারীদের ‘ভাইরাস’ ও ‘ককরোচ গ্যাং’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। ভোটে পরাজয়ের পর অবশ্য তিনি ফলাফলের কারণ খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দলের অভ্যন্তরেও এই ফলাফল নিয়ে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠেছে।
অবশ্য এই ফলাফলকে এখনই সারা দেশের রাজনৈতিক প্রবণতার প্রতিফলন বলা ঠিক হবে না। তবে বিহার ককরোচ ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র হওয়ায় উপনির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে ওই আন্দোলনের প্রভাবের যোগসূত্র নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে। এই পরাজয় বিজেপির নির্বাচনী অজেয় ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং বিরোধীদের সামনে নতুন রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
প্রশান্ত কিশোর ভারতের অন্যতম পরিচিত নির্বাচনী কৌশলবিদ। তিনি আগে বিজেপি, জনতা দল-ইউনাইটেড, তৃণমূল কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, ডিএমকে ও ওয়াইএসআর কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারে কাজ করেছেন। তিনি আই-প্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও পরিচিত। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বিহারকেন্দ্রিক জন সুরাজ দল গঠন করেন।







