শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে দ্রুত বিচারের আশ্বাস নরেন্দ্র মোদির

সংগৃহীত ছবি
ভারতজুড়ে প্রশ্নফাঁসের ক্ষোভ যেন থামছেই না। আন্দোলনের চাপের মুখে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে এ ঘোষণায় সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়াও দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
তবে সরকারের এ ঘোষণায় আন্দোলনকারীদের অবস্থানে পরিবর্তন আসেনি। বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী এবং সিভিল জয়েন্ট প্ল্যাটফর্মের (সিজেপি) নেতারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, একের পর এক প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ নেই।
বুধবার রাতেও নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
প্রশ্নফাঁসের প্রভাব পড়েছে ভারতের সংসদেও। বিরোধী দলের বিক্ষোভে টানা চতুর্থ দিনের মতো লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম বারবার মুলতবি হয়েছে।
বিরোধীদের দাবি, শুধু দ্রুত বিচার আদালত গঠন করলেই সংকটের সমাধান হবে না। প্রশ্নফাঁসের মূল কারণ উদ্ঘাটনের পাশাপাশি এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক মদত থাকলে সেটিও তদন্ত করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর যুবসমাজকে ঘিরে এটিই নরেন্দ্র মোদী সরকারের অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকট। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা সরকারের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।




