দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কে রাত ১০টাতেই পুজা বন্ধের নির্দেশ
- পুলিশি তৎপরতায় ক্ষুব্ধ উদ্যোক্তারা

দুর্গাপুজার আনন্দে ছন্দপতন দিল্লির বাঙালি অধ্যুষিত চিত্তরঞ্জন পার্কে (সিআর পার্ক)। পুজা উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, রাত ১২টা বা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মণ্ডপ খোলা রাখার প্রচলিত রীতি থাকলেও এ বার রাত ১০টার মধ্যেই পুজা বন্ধ করতে চাপ দিচ্ছে পুলিশ। গত ১৬ অক্টোবর থেকে মণ্ডপগুলির আশপাশে বিপুল সংখ্যায় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উদ্যোক্তাদের।
কালী মন্দির পুজা কমিটির সম্পাদক প্রদীপ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, লাঠি ও বাঁশি নিয়ে পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা মণ্ডপে এসে রাত ১০টার মধ্যে দর্শনার্থীদের বেরিয়ে যেতে বলছেন। তার কথায়, ‘‘আমরা শুধু উৎসবটা উপভোগ করতে চাই। কিন্তু পুলিশের আচরণে ভয় পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।’’
মেলা গ্রাউন্ড পুজো কমিটির এক সদস্যেরও দাবি, রাত ১০টার সময়সীমা বাস্তবসম্মত নয়। তাদের আশঙ্কা, দর্শনের সময় কমে যাওয়ায় নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভিড়ের চাপ বেড়ে যেতে পারে। ফলে ভিড় নিয়ন্ত্রণের সমস্যা আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দিল্লির আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজও পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্য, সন্ধ্যায় পুজো দেখার সময় দু’ঘণ্টা কমিয়ে দিলে ভিড়ের চাপ ও বিশৃঙ্খলা বাড়তে পারে।
তার আশঙ্কা, পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পুজা কমিটিগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে প্রশাসন।
যদিও দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অনন্ত মিত্তল উদ্যোক্তাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, আদালত নির্ধারিত শব্দদূষণ সংক্রান্ত বিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতেই পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরেও জোরে গান বাজানোর অভিযোগ উঠেছিল কয়েকটি মণ্ডপের বিরুদ্ধে। আগে বৈঠকে নিয়ম মেনে চলার আশ্বাস দেওয়া হলেও কিছু ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ব্যারিকেড, অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন এবং মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরোনোর জন্য আরও গেট তৈরির মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, মধ্য ও উত্তর দিল্লির রামলীলা ময়দানগুলিতেও এ বছর একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় দিল্লির ডেপুটি কমিশনার রোহিত রাজবীর সিংহ।



