শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে কঠোর আন্দোলন, ককরোচ নেতার হুংকার

ছবি: রয়টার্স
ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে দেশ জুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দাবি করেছেন, এই কর্মসূচিতে হাজার হাজার ছাত্র, যুবক ও অভিভাবক অংশ নিয়েছেন। তার কথায়, এই সমাবেশ সরকারের জন্য শুধু একটি ট্রেলার। আগামী সাত দিনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও বড় আকার নেবে।
পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমর্থন পাওয়ার পর এবার তা রাস্তায় নেমে আসছে বলেও দাবি করছে আন্দোলনকারীরা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজরে সিজেপি
এই আন্দোলন নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, সিজেপি ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, পরীক্ষাসংক্রান্ত কেলেঙ্কারি এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি ক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সংবাদপত্রটির মতে, এই আন্দোলন দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জমে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।
অন্যদিকে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, পরীক্ষায় অনিয়ম, কর্মসংস্থানের সংকট এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যায় ক্ষুব্ধ তরুণদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠছে সিজেপি। তারা এটিকেও উল্লেখ করেছে যে, সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তাকে বাস্তব জনসমর্থনে রূপান্তরের চেষ্টা করছে সংগঠনটি।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই আন্দোলনকে সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় অনলাইন প্রচারাভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় ৪০ কোটি তরুণ-তরুণী রয়েছে এবং তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
বিক্ষোভকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। উদ্ধব ঠাকরে বলেছেন, তরুণদের ককরোচ বলে সম্বোধন করা ঠিক নয়। তার মতে, এই যুবকরাই এখন নিজেদের দাবির পক্ষে সরব হয়েছে এবং সরকারের উচিত তাদের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনা।
সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনের একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, এই আওয়াজ যেন অহংকারী শাসকদের কানে পৌঁছায়। যুবসমাজ পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে।
এনসিপির (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী) নেতা রোহিত পওয়ার বলেছেন, সিজেপির প্রতি বাড়তে থাকা সমর্থন প্রমাণ করছে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় গাফিলতি নিয়ে দেশের তরুণদের ক্ষোভ বাড়ছে।
বিক্ষোভের পর কী বললেন অভিজিৎ
বিক্ষোভের পর সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করেন অভিজিৎ। সেখানে তিনি দাবি করেন, যন্তর মন্তরের সমাবেশে অংশ নিয়ে হাজার হাজার মানুষ ইতিহাস গড়েছেন।
দীপকের বক্তব্য, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ আগে কখনো কোনো বিক্ষোভে যোগ দেননি। কিন্তু একসঙ্গে উপস্থিত হয়ে তারা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নিজেদের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করার সাহস পেয়েছেন।
তিনি বলেছেন, আমরা যদি নিজেদের কথা না বলি, তাহলে কোনো পরিবর্তন আসবে না। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে ছোট ছোট শিশু, ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকরা যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
দীপকের আরও দাবি, শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। সরকার একটি শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ক্ষতি করতে পারবে না।
একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্রকে লক্ষ্য করে তিনি অভিযোগ করেন যে, দেশের একটি প্রজন্মের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। তার হুঁশিয়ারি, ধর্মেন্দ্র পদত্যাগ না করলে বা তাকে অপসারণ না করা হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে এবং রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।




