ফের রাজপথে ককরোচ
ককরোচের থালা-চামচ নিয়ে বিক্ষোভ
- শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে গতকাল ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ। ছবি: রয়টার্স
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সংকট কতটা গভীর হলে থালা-চামচও প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে? গতকাল শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ সেই প্রশ্নই নতুন করে ছুড়ে দিল সরকার, প্রশাসন এবং সমাজের সামনে। আর এই থালা-চামচের শব্দে যেন ধরা পড়ল দেশের হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর হতাশা, ক্ষোভ, অনিশ্চয়তার প্রতিধ্বনি। নিট প্রশ্ন ফাঁসকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাসে যে বিতর্ক, বিভ্রান্তি ও উদ্বেগের আবহ সৃষ্টি হয়েছে, তারই এক প্রতীকী প্রকাশ ঘটল ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে।
প্রতীক বেছে নেওয়ার মধ্যেও ছিল একটি ব্যঙ্গময় রাজনৈতিক বার্তা। ২০২০ সালে করোনা অতিমারির শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে দেশ জুড়ে থালা-ঘণ্টা বাজানোর যে দৃশ্য তৈরি হয়েছিল। ছয় বছর পর সেই একই থালা এবার প্রতিবাদের অস্ত্র হয়ে ফিরল রাজধানীর রাজপথে। তখন উদ্দেশ্য ছিল করোনা যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানানো, আর গতকাল সেই শব্দ উঠল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আন্দোলনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, এই আন্দোলন থামবে না। গ্রেপ্তার হোক, লাঠিচার্জ হোক, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে প্রতিবাদ চলবে।
তার পাশে ছিল জাতীয় পতাকা, মহাত্মা গান্ধী ও ড. বি আর আম্বেদকরের ছবি। উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও। বিক্ষোভস্থলের একাংশে টাঙানো ছিল আত্মহত্যা করা কয়েকজন শিক্ষার্থীর ছবি ও পোস্টার।
দীপকের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহে নিট-সংক্রান্ত বিতর্কের আবহে ১৪ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোচিং সেন্টার, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং সাফল্যের অমানবিক চাপ আজ লাখ লাখ তরুণ-তরুণীর জীবনকে ঘিরে ফেলেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা সেই সংকটকেই আরও গভীর করে।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের দাবি জানিয়েছেন দীপকে।




