ককরোচদের আন্দোলনে যোগ দিতে লাদাখ থেকে আসছেন সোনম ওয়াংচুক

সোনম ওয়াংচুক
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির জন্তর মন্তরে শুরু হওয়া আন্দোলনের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ালেন শিক্ষাসংস্কার আন্দোলনের মুখ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বা সংগঠনের অন্য কোনো সদস্যকে আন্দোলনের আগে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি টানা ৪২ দিনের অনশন শুরু করবেন।
আর এই ঘোষণার ফলে শনিবারে জন্তর মন্তরের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আরও বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে। ওয়াংচুক জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি নিজে লাদাখ থেকে দিল্লি এসে আন্দোলনে যোগ দেবেন।
সূত্রের খবর, শনিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ তার দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
কয়েক দিন আগেই ওয়াংচুক একটি ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যার সমাধান জরুরি। তার বক্তব্য, নিট, সিইউইটি, সিবিএসইসহ একাধিক পরীক্ষাকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা দেশের লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, শুধু নীতিপত্র তৈরি করলেই হবে না, সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে শনিবার সকালে আমেরিকা থেকে দিল্লিতে আসেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ তিনি বিমানবন্দরে নামেন এবং সেখান থেকে সরাসরি জন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা হন। দিল্লি পৌঁছে তিনি সমর্থকদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেছেন, আন্দোলন যেন সংবিধানের পথ মেনে এবং সম্পূর্ণ অহিংসভাবে পরিচালিত হয়।
সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিল্লি পুলিশ শেষ পর্যন্ত জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছে। সকাল ১০টা থেকে আন্দোলন শুরু হয়। প্রথমে সমর্থকদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে জড়ো হওয়ার কথা থাকলেও পরে সরাসরি জন্তর মন্তরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত কয়েক দিনে সোনম ওয়াংচুকের সমর্থন এই আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ রক্ষার দাবিকে সামনে রেখে তিনি আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন। তার ৪২ দিনের অনশনের হুঁশিয়ারি আন্দোলনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে সোনম ওয়াংচুক শুধু একজন পরিবেশকর্মী নন, তিনি ভারতের অন্যতম পরিচিত উদ্ভাবক, প্রকৌশলী ও শিক্ষাসংস্কারক। বলিউডের জনপ্রিয় ছবি থ্রি ইডিয়টসে আমির খানের অভিনীত ‘ফুনসুখ ওয়াংডু’ চরিত্রটি মূলত তার জীবন ও কাজ থেকে অনুপ্রাণিত। লাদাখের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেকমল, যা বিকল্প শিক্ষার এক সফল মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তার তৈরি ‘আইস স্টুপা’ বা কৃত্রিম হিমবাহ প্রকল্প বিশ্ব জুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। এই কাজের জন্য তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মান পেয়েছেন।






