আল-মুসলিম গ্রুপে ১,৮৬৪ শ্রমিক ছাঁটাই, অসন্তোষের শঙ্কা

ছবি: আগামীর সময়
সাভারের পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আল-মুসলিম গ্রুপ ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে একযোগে ছাঁটাই করেছে ১ হাজার ৮৬৪ জন শ্রমিক। আর এই শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কার মধ্যেই এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
শুক্রবার রাতে সাভার পৌর এলাকার উলাইলে অবস্থিত আল-মুসলিম গ্রুপের কারখানায় আয়োজিত ওই সভায় সাংবাদিকদের আপ্যায়নের পর ছাঁটাইয়ের তথ্য তুলে ধরেন কর্তৃপক্ষ। বৈঠকে উপস্থিত সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
আলোচনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ববাজারে পোশাক খাতে মন্দা এবং ক্রয়াদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ইউনিট থেকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত এক গণমাধ্যমকর্মী বলছিলেন, আল-মুসলিম গ্রুপে ১ হাজার ৮৬৪ জন শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। এতে আগামীকাল শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। সে কারণে আগেভাগে সাংবাদিকদের ডেকে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এমন ঘটনা আগে কখনও দেখিনি।
আল-মুসলিম গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বললেন, ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ছাঁটাই করেছে। শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। প্রত্যেক শ্রমিক এক মাসের বেতনসহ প্রাপ্য সুবিধা পেয়েছেন।
তিনি আরও বললেন, আজ শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যম যেন সঠিক তথ্য তুলে ধরে, সে অনুরোধ করছি।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেছেন, কারখানায় কাজ না থাকলে শ্রম আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী শ্রমিক ছাঁটাই করা যায়। তবে পরবর্তীতে নতুন করে শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজন হলে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
তিনি জানান, অনেক শ্রমিক এখনও ছাঁটাইয়ের বিষয়টি জানেন না। ফলে শনিবার কারখানা খোলার পর এ নিয়ে অসন্তোষ বা প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।




