তৃণমূলের তিন ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বন্ধ

সংগৃহীত ছবি
ভারতের রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবার পৌঁছে গেল দলীয় তহবিলের দোরগোড়ায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ, ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে বেআইনি উপায়ে সংগৃহীত অর্থ জমা থাকতে পারে। তদন্তের আগে যাতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট না হয়, সেই কারণেই দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছিল। ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েকদিন আগে। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ দাবি করে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। সেই চিঠিতে তিনি দাবি করেন, দলের নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে গুরুতর অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে অননুমোদিত ব্যক্তি দলীয় তহবিল ব্যবহার করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাই বিরোধ মিটে না যাওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং অর্থ তোলা বন্ধ রাখার আবেদন জানানং
তৃণমূল অবশ্য পাল্টা জানায়, ৫ জুনের সাংগঠনিক রদবদলের পর আর দলের কোষাধ্যক্ষ নন অরূপ বিশ্বাস। তার জায়গায় প্রাক্তন সাংসদ শুভাশীষ চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে অরূপ-ঘনিষ্ঠদের দাবি, সেই পরিবর্তনের বিষয়ে ব্যাঙ্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ফলে ব্যাঙ্কের নথিতে এখনও অরূপ বিশ্বাসের নামই রয়েছে।
এর মধ্যেই নতুন মোড় নেয় বিতর্ক। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ শিবিরের এক বিধায়ক বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে দাবি করে জানান, দলীয় অ্যাকাউন্টগুলিতে থাকা বিপুল অর্থের উৎস খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, অর্থের একটি অংশের উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ককে লেনদেন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয় বলে সূত্রের খবর।
সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রায় ৬৭৫ থেকে ৬৭৬ কোটি টাকা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া দলীয় আর্থিক নথিতেও কয়েকশো কোটি টাকার নগদ ও ব্যাঙ্ক আমানতের উল্লেখ রয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের তহবিলকে কেন্দ্র করেই সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে এখন। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, শুধু একজন নন, আরও কয়েকজন বিধায়ক একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হতে পারেন। তাদের বক্তব্য, দলীয় তহবিলের উৎস, ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রণ সবকিছুরই স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে এই বিতর্ককে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, দলীয় অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থের উৎস সম্পর্কে তদন্ত হওয়া দরকার। তার বক্তব্য, অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং তা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, খতিয়ে দেখা উচিত তা।
প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমিতাভ ভট্টাচার্যের মতে, কোষাধ্যক্ষ পদ নিয়ে বিরোধ এবং দলীয় তহবিলকে কেন্দ্র করে সংঘাত ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। বিষয়টি শুধুমাত্র অর্থের নয়, নিয়ন্ত্রণের লড়াইও বটে।




