ড্রোন ক্যামেরায় পাহাড়ের আর্তনাদ, আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতলেন অন্ধ্রপ্রদেশের রুকিয়া মুহাম্মদ

ক্যামেরা হাতে রুকিয়া মুহাম্মদ। ছবি : সংগৃহীত
প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি পরিবেশ ধ্বংসের ভয়াবহ ছবিও যে ক্যামেরার মাধ্যমে তুলে ধরা যায়, তা আবারও প্রমাণ করলেন ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের তরুণ ফটোগ্রাফার রুকিয়া মুহাম্মদ। পূর্বঘাট পর্বতমালার বদলে যাওয়া রূপ এবং মানুষের কর্মকাণ্ডে প্রকৃতির ক্ষতির ছবি তুলে তিনি জিতেছেন বিখ্যাত ‘নেচার ইন ফোকাস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এর ‘ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার’ সম্মান।
অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার বাসিন্দা রুকিয়া পেশায় একজন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার অ্যাসেট ম্যানেজার। তবে এই কাজের বাইরেও প্রকৃতি, পাহাড়, বন ও সবুজের প্রতি তার গভীর টান রয়েছে। আর সেই টান থেকেই তিনি একা ভ্রমণ করেন, ড্রোন ক্যামেরায় পাহাড়-জঙ্গল ধারণ করেন এবং সমুদ্রের নিচেও স্কুবা ডাইভিং করে ছবি তোলেন। পরিবেশের বদলে যাওয়া ছবিও তার ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
‘ইকোস অব দ্য ইস্টার্ন ঘাটস’ নামে তার পুরস্কারজয়ী ফটো সিরিজে পূর্বঘাট এলাকার নানান বাস্তব ছবি উঠে এসেছে। কোথাও বন কেটে রাস্তা তৈরি হচ্ছে আবার কোথাও পাহাড় ভেঙে খনি চলছে। কোথাও পর্যটনকেন্দ্র বা রিসোর্ট গড়তে ধ্বংস হচ্ছে সবুজ বনাঞ্চল। ড্রোন থেকে তোলা এসব ছবি শুধু সুন্দর দৃশ্যই নয় পরিবেশ সংকটের এক সতর্কবার্তাও বহন করছে।
রুকিয়ার মতে, ছবি শুধু শিল্প নয় এটি সচেতনতা তৈরির শক্তিশালী মাধ্যম। মানুষের তথা কর্পোরেট ভোগবাদী কোম্পানিগুলোর কর্মকাণ্ডে প্রকৃতি কীভাবে বদলে যাচ্ছে, তা দৃশ্যের মাধ্যমে দেখাতে পারলে সাধারণ মানুষও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব বুঝতে পারেন। তিনি মনে করেন, পাহাড় বা বন কেবল ভৌগোলিক স্থান নয়। এগুলো জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র, যেখানে মানুষ, প্রাণী ও প্রকৃতি একে অপরের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িয়ে আছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও রুকিয়ার কাজ আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ২০২১ সালে তিনি ড্রোন ফটোগ্রাফির জন্য ‘স্যানচুয়ারি ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড’ পান। এছাড়া ২০২৩ সালে ‘সিয়েনা ড্রোন অ্যাওয়ার্ডস’-এও সম্মানিত হন।
স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বজুড়ে পরিবেশ ধ্বংস ও জলবায়ু পরিবর্তনের উদ্বেগের সময় রুকিয়ার এই অর্জন নতুন করে মনে করিয়ে দিল, একটি ছবি কখনও কখনও হাজার কথার চেয়েও বেশি শক্তিশালী হতে পারে।






