মাওবাদী নেত্রী থেকে মূলস্রোতে ফেরা শকুন্তলা পাচ্ছেন চাকরি

শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পা
ভারতের ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির একসময়ের মাওবাদী নেত্রী শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পার জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘদিন সশস্ত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর আত্মসমর্পণ করে মূলস্রোতে ফিরে আসা এই সাবেক মাওবাদী কমান্ডারকে স্পেশাল হোমগার্ড পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ জেলা পুলিশের কাছে পৌঁছে যাবে বলে জানা যায়।
মাওবাদী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে যে কর্মসূচি চালু রয়েছে, শকুন্তলার ক্ষেত্রে সেই নীতিই কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সরকারি চাকরির সুযোগের পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ, তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা, আবাসন নির্মাণে সহযোগিতা এবং অন্যান্য সামাজিক পুনর্বাসনমূলক সুবিধাও দেওয়া হবে।
সূত্রের দাবি, স্পেশাল হোমগার্ড হিসেবে নিয়োগ পেলে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট ভাতা ও বেতন পাবেন শকুন্তলা। ফলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর তার পরিবারে আর্থিক স্থিতি ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
শকুন্তলার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, চরম আর্থিক সংকটের সময়েই তিনি ঘর ছেড়ে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। পরিবার এখনও নানা সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তার ভাই অমিয় মাহাতোর কথায়, সংসারের অভাবই দিদিকে বহু বছর আগে অন্য পথে নিয়ে গিয়েছিল। এখন আত্মসমর্পণের পর সরকারের পুনর্বাসন প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর আশা করছেন তারা। মাওবাদী নেত্রী শকুন্তলা ওরফে পুষ্পা বলেছেন, এই আন্দোলন এখন আর ঠিক নয়। সরকারের কাজে আমি খুশি হয়েছি। তাই সমস্ত অস্ত্র ত্যাগ করে মূলস্রোতে ফিরে এসেছি।
এক সময় ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা অঞ্চলে সক্রিয় থাকা শকুন্তলার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর চোখে তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ মাওবাদী নেত্রীদের অন্যতম। আত্মসমর্পণের পর তদন্তকারী সংস্থা ও গোয়েন্দাদের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় তার জীবনের এমন কিছু দিকও সামনে এসেছে, যা অনেককে বিস্মিত করেছে।
জঙ্গলে থাকাকালীন সময়ে আহত পাখির পরিচর্যা করা থেকে শুরু করে মা-হারা হনুমান শাবককে লালন-পালন করার মতো ঘটনাও উঠে এসেছে তার অতীত জীবনের বর্ণনায়। সহযোদ্ধাদের বক্তব্য ও বিভিন্ন ছবির মাধ্যমে সেই মানবিক দিকেরও প্রমাণ মিলেছে।
প্রশাসনের মতে, এই নিয়োগ কেবল একজন সাবেক মাওবাদীর চাকরি পাওয়ার ঘটনা নয়। এটি এমন একটি বার্তা, যেখানে অস্ত্রের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহীদের জন্য পুনর্বাসনের দরজা খোলা রয়েছে। সরকারের আশা, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বহু বিপথগামী যুবক-যুবতীকে মূলস্রোতে ফেরার বিষয়ে উৎসাহিত করবে।
বেলপাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা সুরেশ মাহাতোর কথায়, বন্দুকের পথ ছেড়ে কেউ যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়, তাহলে তাকে সুযোগ দেওয়া উচিত। চাকরি পেলে শকুন্তলার পরিবারও স্বস্তি পাবে।এলাকার এক বিজেপি নেতার দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সরকার শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, পুনর্বাসনের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে। মাওবাদ ত্যাগ করে আত্মসমর্পণকারীদের সমাজে সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে আনার জন্য এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।




