দিল্লিতে তৃতীয় দিনেও অবস্থানে ককরোচ জনতা পার্টি

অবস্থান কর্মসূচিতে ককরোচ জনতা পার্টির নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লির জন্তর মন্তরে টানা তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন দলটির কর্মী-সমর্থকরা।
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে।
শনিবার শুরু হওয়া এই অবস্থান-বিক্ষোভ সোমবারেও অব্যাহত রয়েছে। রাতভর বহু আন্দোলনকারী জন্তর মন্তরেই অবস্থান করেন। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশ।
আন্দোলন ঘিরে পুলিশের সঙ্গে টানাপড়েনও তৈরি হয়েছে। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, জন্তর মন্তরে এই কর্মসূচির অনুমতি ছিল শনিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরেও আন্দোলনকারীরা অবস্থান তুলে নিতে অস্বীকার করেন। সিজেপি পক্ষ থেকে কর্মসূচির সময় বাড়ানোর আবেদন করা হলেও তাতে সাড়া দেয়নি পুলিশ। এরপরও বিক্ষোভকারীরা জন্তর মন্তরে থেকে যান এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে প্রশাসনিক বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অন্যদিকে পুলিশের ভাষ্য, অনুমতির শর্ত মেনেই কর্মসূচি পালন করতে হবে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে রবিবার জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি কৃষক সংগঠন-সহ সাধারণ মানুষকেও এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিট প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর ঘটনায় কেন্দ্র সরকার এখনও পর্যন্ত সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে মানসিক চাপে পড়ে যেসব পড়ুয়ার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে, তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
রবিবার বিক্ষোভস্থলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। আন্দোলনকারীরা গান গেয়ে, ঢোল বাজিয়ে এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন। এক সময় শৌচাগারে পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে। পরে অবশ্য খাবার পানি ও অন্যান্য পরিষেবা ফের চালু হয়েছে বলে জানান বিক্ষোভকারীরা।
সিজেপির মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, নিট প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, কৃষক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের একসঙ্গে রাস্তায় নামা প্রয়োজন। আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ থাকবে বলেও তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি, সরকারের কাছ থেকে জবাবদিহি না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন।




