চিকিৎসা ওষুধ, ভাড়াও দেন আলতাফ

বিনামূল্যে গরিব ও অসহায়দের চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. আলতাফ মাহমুদ। ছবি: আগামীর সময়
বরিশালের প্রত্যন্ত গ্রামে এক চিকিৎসক বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন বছরের পর বছর ধরে। হাজার হাজার মানুষকে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ওষুধও দিচ্ছেন বিনামূল্যে। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে প্রতি শুক্রবার এই কার্যক্রম চালাচ্ছেন ডা. আলতাফ মাহমুদ। তিনি বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন আহম্মেদ ডায়াবেটিক ও জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কচুয়া গ্রামে তার বাড়িসংলগ্ন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা ক্যাম্পে ৪১৫ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে শুরু হয় তার এ কাজ। এরপর থেকে বিনামূল্যে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পেয়েছেন তার চিকিৎসাসেবা, সঙ্গে ওষুধও পেয়েছেন অনেকে। সপ্তাহে এক বা দুদিন সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেন ডা. আলতাফ। মা-বাবার স্মরণে ২০২১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তাহমিনা-ওয়াজেদ চ্যারিটি।
সম্প্রতি কচুয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ডা. আলতাফ মাহমুদ হাফিজিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন টিনের ঘরের এক কক্ষে অপেক্ষমাণ নারী-পুরুষের ভিড়। অন্য একটি কক্ষে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ডা. আলতাফ। রোগীরা প্রথমে টোকেন সংগ্রহ করে বিনামূল্যে রক্তচাপ ও দরকার অনুযায়ী ডায়াবেটিস পরীক্ষা করান। এরপর চিকিৎসক রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দেন। পরে বিনামূল্যে ওষুধ সংগ্রহ করেন রোগীরা।
বরিশালের উজিরপুর, বাবুগঞ্জ ও গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ বছর জুড়ে এই চিকিৎসকের সেবা নিতে আসেন। অনেক রোগীকে আর্থিক সহায়তাসহ যাতায়াতের ভাড়াও দিয়ে থাকেন তিনি।
চিকিৎসা নিতে আসা উজিরপুরের ধামুরার অঞ্জলী মণ্ডল জানিয়েছেন, ‘ফ্রি চিকিৎসা পাইয়া আমার খুব উপকার হয়, শহরে যাইয়া চিকিৎসা নিতে অনেক খরচ, বাড়ির কাছে ডাক্তারের চিকিৎসা পাইছি, ওষুধ পাইছি, এটা গরিবের জন্য খুব ভালো।’
বাবুগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা বৃদ্ধ সত্তার হাওলাদার বললেন, ‘যখন ডাক্তার দরকার হয়, তখন এখানে চলে আসি, ওনার সঙ্গে কথা বলেও শান্তি। টাকা তো লাগেই না, আমাকে ভাড়াও দিয়ে দেন, ওষুধও দেন।’
কচুয়া গ্রামের নূর-এ-মদিনা জামে মসজিদের ইমাম মো. সাব্বির আহমেদের ভাষ্য, ‘ডাক্তার সাহেব চিকিৎসাসেবা দেন এবং একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিচালনা করেন। এ ছাড়া নানাভাবে সহায়তা করেন গ্রামের মানুষকে। ওনার মতো মানুষ এই সমাজে দরকার।’
ডা. আলতাফ মাহমুদের কথা, ‘চিকিৎসা পেশায় স্থায়ী হওয়ার পর একসময় মনে হলো মানুষের চিকিৎসা নিয়ে অনেক সমস্যা, অনেক রোগী ওষুধও কিনতে পারেন না। আর গ্রামের মানুষের তো চিকিৎসাসেবা নিতে হিমশিম খেতে হয়। তাই চিকিৎসাপত্র দেওয়ার পর এখান থেকে পুরো ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা করি।’
‘তবে বিনামূল্যে রোগী দেখা শুরু করার পর এত রোগী দেখব বা প্রতিনিয়ত ধারাবাহিক কার্যক্রম চালাব— সেই পরিকল্পনা ছিল না। মানুষের প্রয়োজনেই এত রোগীকে সেবা দিয়েছি, ভবিষ্যতেও দিয়ে যাব’— যোগ করেন তিনি। এই চিকিৎসক জানালেন, এ পর্যন্ত তিনি অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন।
ডা. আলতাফ মাহমুদ মনে করেন, ‘একটা মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার পর রোগমুক্ত হলে এটি যে শান্তি, তা পৃথিবীর কোনো কিছুতে নেই।’ আর্থিক সচ্ছলতা এলে একটি হাসপাতাল ও বৃদ্ধদের জন্য আশ্রম করার ইচ্ছা আছে বলে জানালেন তিনি।




