শিবির সভাপতি
খুনের রাজনীতি পরিহার না করলে বিএনপিকেও দেশছাড়া করবে জনগণ

ছবি: আগামীর সময়
বিগত ২০ বছর ধরে রাজপথে একসঙ্গে লড়াই করলেও আজ ক্ষমতায় এসে বিএনপি আওয়ামী লীগের মতোই স্বৈরাচারী ও খুনের রাস্তা অবলম্বন করেছে। অনতিবিলম্বে এই খুনের রাজনীতি পরিহার না করলে আওয়ামী লীগের মতো তাদের দেশছাড়া করবে দেশের জনগণ। এমনটাই বলছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।
রবিবার রাতে রাজধানীতে গাইবান্ধার ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে মিছিল শুরু হয়। পরে শাহবাগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয় কর্মসূচি। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ।
সমাবেশে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, ‘গাইবান্ধায় আমাদের ভাই সাইফুল্লাহর ওপর যে বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। বিএনপি-যুবদলের এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা প্রশাসনকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অনতিবিলম্বে সাইফুল্লাহর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় ছাত্রসমাজ রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বিএনপির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কোনো পার্থক্য নেই। দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এই দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে রক্ষা করার জন্য ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে সদা প্রস্তুত। যারা ক্ষমতার মোহে দেশে সন্ত্রাস, খুন, চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, এখনই তারা সতর্ক না হলে পাঁচ বছরও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ বিএনপি ও প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, ‘ডাইনি হাসিনার গুম-খুনের রাজনীতির পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিএনপি আজ একটি নতুন ডাকাত দলে পরিণত হয়েছে। খুনী হাসিনা বলতো, এ দেশ তার বাপের দেশ। আর এখন নব্য ফ্যাসিস্ট দল বিএনপির কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে দেশের জনগণ যেন বাংলাদেশ তাদের কাছে ইজারা দিয়েছে। দেশের প্রতিটি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক-বীমা, মাঠ-ঘাটসহ এমন কোনো জায়গা বাকি নেই, যেখানে তারা দখলদারি এবং ডাকাতি করেনি। তাদের এই চরম অত্যাচার ও জুলুমের কারণে দেশের মানুষ আজ তীব্রভাবে ত্যক্ত-বিরক্ত।’
ছাত্রদল ও বিএনপির অতীত এবং বর্তমান সহিংসতার অভিযোগ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ‘ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি ও ছাত্রদল মিলে আমাদের ৩২ জন নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আপনারা যে লাশের রাজনীতি শুরু করেছেন, সাবধান হয়ে যান। এই রক্তের খেলা দেশের সাধারণ জনগণ এমনভাবে শেষ করবে, যা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না।’
সমাবেশ থেকে নিহত সাইফুল্লাহর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান শিবির নেতারা। একই সঙ্গে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিতেও দাবিও জানান তারা।





