বাবার স্থায়ী অনুপস্থিতিই তাকে মহান করে

লেখক, গল্পকার ও কলামিস্ট হোসেন আবদুল মান্নান
দিনগুলো সব ‘দিবস’ হয়ে গেছে। দিবসবিহীন একটা সূর্যোদয়ও হয় না আজকাল। বিশ্ব বাবা দিবস এবং একইসঙ্গে সংগীত দিবস ছিল গতকাল রবিবার। একটা সামাজিক ক্লাব ঘটা করে দিবসটি উদযাপন করেছে। ক্লাবটির নাম গোল্ড ক্লাব। সদ্য প্রকাশিত দৈনিক ‘আগামীর সময়’ এর পৃষ্ঠপোষকতা করছে। বাবাকে নায়ক বলে অবহিত করেছে তারা। বলছে, ‘আমার নায়ক আমার বাবা’। বাবাদের নিয়ে এমন মহতি আয়োজন প্রশংসার দাবি করতে পারে।
বাবা আসলে কে? এটা কিন্তু আজও পরিস্কার নয়, বরং পৃথিবীর গূঢ় রহস্যময় এক মায়াবী শব্দের নাম বাবা। বাবা কি সত্যিই নায়কের মতন? তবে খলনায়ক কারা? নায়ক খলনায়ক সবাই বাবা। ভালোর মতো পৃথিবীটাতে মন্দ মানুষও কম নয়।
কিন্তু মন্দ বাবা নেই। দেশে দেশে ওল্ডহোম বা বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে কি শুধু নায়করা বাস করছেন? না, এটাও না। আসলে বাবা হলেন, পিঠের ওপর বোঝা নিয়ে আমৃত্যু বহনকারী দ্বিপদী প্রাণির আরেক নাম। পুরুষ মানুষের একাধিক সংজ্ঞা থাকলেও বাবার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। পুরুষ যখন বাবা হয়ে যান, ঠিক তখন থেকেই অসহায়ত্ব তাকে চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে। যার জটিল বন্ধন থেকে সে আর কখনো বেরোনোর পথ খুঁজে পায় না। তখন থেকেই তার হাতে-পায়ে, চোখে মুখে অদৃশ্য শৃঙ্খল পরিহিত জীবনের শুরু। এ ভারি শিকল নিয়েই একদিন তাকে তার সব আসন ছেড়ে চলে যেতে হয়।
কন্যার বাবাদের একটু বাড়তি প্রাপ্তি থাকে। কন্যার কাছে বাবা সত্যিই হিরো এবং অদ্বিতীয়। কিন্তু একই সাথে নতজানু। দুনিয়ার সবচেয়ে ক্ষমতাধর, ঐশ্বর্যবান অথবা নিষ্ঠুর বাবাও কন্যাকে অবজ্ঞায় অতিক্রম করে যেতে পারেন না। বাবার কাছে কন্যা কখনো বোঝা হয় না।
বাস্তবে বাবা হলেন সে-ই মানুষটি যার গুরুত্ব অনুধাবন করানোর জন্যে তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়। কেবল বাবার স্থায়ী অনুপস্থিতিই তাকে মহান এবং মহিমান্বিত করে তোলে। এ কারণেই বোধকরি বাবা এক বিমূর্ত অদ্ভুত রহস্যাবৃত সম্বোধন।
বিশ্ব বাবা দিবস যাপিত হোক।




