আজ আর্জেন্টিনার অস্ট্রিয়া চ্যালেঞ্জ

অনুশীলনে সতীর্থরাও মেসির মুগ্ধ দর্শক। যেন তাদের মন বলছে, ‘তুমি কেমন করে...। ছবি: রয়টার্স
আর্জেন্টিনার শুরুটা হয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মতোই। দাপটে আর নিখুঁতভাবে। আলজেরিয়ার পর আজ আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় অভিযান অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। ম্যাচের ভেন্যু ডালাস। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ডালাসে ৩০ জুন আর্জেন্টিনার ম্যাচ ছিল বুলগেরিয়ার সঙ্গে। এর দুদিন আগে আর্জেন্টিনাকে ফিফা অফিসিয়ালি জানায়, ডালাসে অনুষ্ঠিত নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা! খবরটা ছড়িয়ে যায় দাবানলের মতো। শেষ পর্যন্ত বুলগেরিয়ার বিপক্ষে আর খেলা হয়নি ম্যারাডোনার। ম্যাচটা ২-০ গোলে হেরে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা।
সেদিক থেকে এই ডালাস অপয়া। তবে মেসির পায়ের ছোঁয়ায় এই ভেন্যু পয়া হতে কতক্ষণ! ম্যাচটা আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া হলেও মধ্যমণি হয়েই থাকবেন ‘খুদে জাদুকর’। ম্যাচের আগে অস্ট্রিয়ার মিডফিল্ডার কনরড লাইমার ফিফায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘মেসি বিশ্বের সেরা ফুটবলার। ম্যাচটা জিততে হলে মেসিকে আটকাতে হবে।’ আসলে মেসিই পারেন ম্যারাডোনার কান্না ভুলিয়ে এই মাঠে বিজয়গাথা রচনা করতে।
তাই তাকে আটকানোই যেন মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে প্রতিপক্ষের। কিন্তু জাদুকরকে কি আর মায়াজালে বাঁধা সম্ভব। আলজেরিয়া সবরকম চেষ্টা করেও পারেনি। উল্টো হ্যাটট্রিক করে অমরত্বের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেছেন। আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও সবটুকু আলো থাকবে তার ওপর। তবে খেলাটা তো একজনের নয়, ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনের লড়াই। এই ১১ জন নির্বাচন করতেই হিমশিম খাচ্ছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
প্রথম ম্যাচের একাদশ থেকে আজ কয়েকটা বদল আসতে পারে আর্জেন্টিনায়। হ্যামস্ট্রিংয়ে আঘাত পাওয়া রাইটব্যাক গনসালো মন্তিয়েল খেলছেন না নিশ্চিত। তার জায়গায় একাদশে দেখা যেতে পারে নাহুয়েল মোলিনাকে। টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, থিয়াগো আলমাদার জায়গায় নিকো গনসালেস আর লাউতারো মার্তিনেসের বদলে একাদশে হুলিয়ান আলভারেসকে খেলানো নিয়ে ভাবছেন স্কালোনি। চোট থেকে সেরে ওঠায় ম্যাচের কোনো একপর্যায়ে মাঠে নামতে পারেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নিকোলাস তাগিয়াফিকো। এই দুজনকে ফিরে পাওয়াটা শক্তিই বাড়াবে আর্জেন্টিনার।
একটা সময় টোটাল ফুটবলে রেনেসাঁ ঘটিয়ে নেদারল্যান্ডস ১৯৭৪ ও ১৯৭৮ বিশ্বকাপে পৌঁছেছিল ফাইনালে। এই টোটাল ফুটবলের শুরুটা কিন্তু অস্ট্রিয়ায়। হৃদয়কাড়া নতুন ঘরানার ফুটবলে ১৯৩৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও পৌঁছে তারা। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে হয়েছিল তৃতীয়। এর পর থেকে রঙ হারাতে থাকে অস্ট্রিয়ান ফুটবল। এতটাই যে, ১৯৯৮ সালের পর আর সুযোগ পায়নি বিশ্বকাপেই। একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলার এসে ভেঙেছেন ব্যর্থতার বৃত্ত। তাই আর্জেন্টিনার লড়াইটা যে সহজ হবে না, সেটি আলজেরিয়াকে হারানোর পরই স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন কোচ স্কালোনি। অস্ট্রিয়াকে সমীহ করে তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে কোনো সহজ প্রতিপক্ষ নেই। অস্ট্রিয়া বাছাই পর্বে অসাধারণ খেলেছে, ওরা কঠিন দল।’
আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ পাবলো আইমারকে শৈশবে আদর্শ মানতেন লিওনেল মেসি। সেই আইমার মেসির সঙ্গে খেলেছেন ২০০৬ বিশ্বকাপ, বিপক্ষে খেলেছেন লা লিগায় আর এখন তিনি আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ফিফায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইমার বলেছেন, ‘মেসি আমাকে আদর্শ মানত শুনে বুকটা গর্বে ভরে ওঠে। (তার হ্যাটট্রিকে) দারুণ জয় দিয়ে শুরু করতে পেরে আমরা খুশি। আমরা শান্ত আছি, তবে বড্ড বেশি নিশ্চিন্ত নই। কারণ, ফুটবলে আপনি কখনোই পুরোপুরি নিশ্চিন্তে বসে থাকতে পারেন না। প্রথম ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্সের সন্তুষ্টি যেমন আছে, তেমনি দলে একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় থাকার স্বস্তিও রয়েছে।’
২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর অস্ট্রিয়াকে আগ্রাসী ও গতিময় ফুটবল খেলাচ্ছেন জার্মান কোচ রালফ রাংনিক। দলের সেরা খেলোয়াড় ডেভিড আলাবা পুরোপুরি ফিট আর রক্ষণভাগ সামলাতে তৈরি। রক্ষণভাগের কেন্দ্রে তার সঙ্গে রয়েছেন কেভিন ডানসো। মাঝমাঠে কনরড লাইমার ও মার্সেল সাবিৎজারের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং হাই-প্রেসিং ফুটবল যেকোনো প্রতিপক্ষের মাথাব্যথার কারণ। নিজেদের প্রমাণ করে প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল তারা।
এই দলের আলাবা, সাবিৎজাররা নানা সময়ই ক্লাব ফুটবলে মুখোমুখি হয়েছেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের। সেই অভিজ্ঞতা থেকে ডেভিড আলাবা বলেছেন, ‘আমরা জানি কোন ধরনের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে চলেছি। মেসি ছাড়াও তাদের দলে কী ধরনের মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে— সব জানা আমাদের।’
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়েছে তিনবার। দুই দলের জয় একটি করে, ড্র অন্য ম্যাচে। ১৯৮০ সালে অস্ট্রিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা।




