শিলিগুড়ি করিডোর নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
- বাংলাদেশ সীমান্ত ঘুরে দেখলেন অমিত শাহ
- চিকেনস নেকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ

শিলিগুড়ি করিডোর নিয়ে বৈঠক করেছেন অমিত শাহ- সংগৃহীত
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ রক্ষাকারী কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা নিয়ে এবার বিশেষ গুরুত্ব দিল দেশটির সরবার। আজ শনিবার দেশটির উত্তরবঙ্গ সফরে এসে সীমান্ত সুরক্ষা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একাধিক নির্দেশনা ও আলোচনা করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
গতকাল রাতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছন শাহ। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে তিনি বিএসএফের কদমতলা সদর দপ্তরে রাত্রিযাপন করেন। আজ সকালে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনের মধ্য দিয়েই শুরু হয় তার ব্যস্ত কর্মসূচি।
প্রথমে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে যান অমিত শাহ। জামুড়িয়া ভিটা ও সন্ন্যাসীকাঁটার মতো স্পর্শকাতর সীমান্ত অঞ্চল ঘুরে দেখার পাশাপাশি তিনি জুমাগাছ সীমান্ত চৌকিতে বিএসএফের সঙ্গে কথা বলেছেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসও করেন তিনি।
এরপর উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভারতের উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ভারতীয় প্রশাসনিক সূত্র জানায়, বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা। উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে দেশের বাকি অংশকে যুক্ত রাখা এই সরু ভূখণ্ডকে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান সীমান্ত ঘিরে বিভিন্ন নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের প্রেক্ষিতে নজরদারি আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি বৈঠকে জন্ম ও মৃত্যুর নথি ডিজিটাইজেশন, আধার কার্ড সংক্রান্ত বিষয়, অবৈধ ভোটার শনাক্তকরণ এবং গুন্ডাদমন আইন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় প্রশাসনের মতে, অতীতে জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই কারণে পরিচয় যাচাই ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও নির্ভুল করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
উত্তরকন্যার বৈঠকে শুভেন্দু ছাড়াও দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর উত্তরবঙ্গে অমিত শাহের এটিই প্রথম সফর। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ রোধে কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে এই সফরে। পাশাপাশি চিকেনস নেকের নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে আগামী দিনে নতুন পদক্ষেপও ঘোষণা করা হতে পারে।




