১৭ দিনের অনশনে সোনম ওয়াংচুক, প্রশ্ন তুললেন ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর চতুর

ওমি বৈদ্য ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবিতে চতুর রামালিঙ্গম চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন
ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে ১৭ দিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষাবিদ, উদ্ভাবক ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তার দাবিগুলো নিয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ বা স্পষ্ট বার্তা সামনে আসেনি। এই পরিস্থিতিতে তার সমর্থনে সরব হয়েছেন বলিউড অভিনেতা ওমি বৈদ্য, যিনি ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবিতে চতুর রামালিঙ্গম চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন।
সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন মূলত শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষার স্বচ্ছতা, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে। আন্দোলনকারীদের দাবি, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোকে সরকার গুরুত্ব না দেওয়াতেই এই প্রতিবাদের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন সোনম।
অনশনের ১৭তম দিনে প্রকাশ্যে আসা ছবি ও ভিডিওতে তাকে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় দেখা গিয়েছে। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তার ওজন প্রায় ৯ কেজি কমেছে এবং শারীরিক শক্তিও অনেকটাই ক্ষয় হয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি আন্দোলন থেকে সরে আসার কোনও ইঙ্গিত দেননি।
এই আবহে একটি ভিডিও বার্তায় ওমি বৈদ্য বলেছেন, তিনি চান না বাস্তব জীবনের সেই মানুষ, যার অনুপ্রেরণায় ‘ফুংসুখ ওয়াংড়ু’ চরিত্রটি তৈরি হয়েছিল, তিনি এভাবে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যান। সোনমকে তিনি একজন অসাধারণ উদ্ভাবক, শিক্ষাবিদ এবং সমাজসংস্কারক বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে দেশের মানুষের কাছে আবেদন জানান, তাচরা যেন সোনমের আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও বার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘থ্রি ইডিয়টস’-এ সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আমির খান। কিন্তু সোনমের দীর্ঘ অনশন ঘিরে এখনও পর্যন্ত তার কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। বিষয়টি নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র সোনম ওয়াংচুককে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, সোনমের আন্দোলন ইতিমধ্যেই দেশের অসংখ্য তরুণকে ন্যায়বিচারের দাবিতে একত্রিত করেছে। তাই জীবনকে ঝুঁকির মুখে না ফেলে অন্যভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও ওমি বৈদ্যের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক জগতের মানুষেরা যখন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশে দাঁড়ান, তখন সেই বার্তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।




